জাকসু নির্বাচন বন্ধ তিন দশক

ভিসির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন হয়েছে মাত্র আট বার। যেখানে প্রতি বছর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সেখানে দীর্ঘ ২৯ বছর যাবত অচল জাকসু। অচলাবস্হার কারণে অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণের দাবি তুলতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। ফলে ন্যাঘ্য অধিকার থেকে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যেই জাকসু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। সে অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারও নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপরেও জাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে দীর্ঘদিন জাকসু অচল থাকলেও সচল রয়েছে এ খাতের আয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর পরের বছরই প্রথম জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৭৪, ১৯৭৯, ১৯৮০, ১৯৮১, ১৯৮৯, ১৯৯০ ও ১৯৯১ সালসহ মোট আট বার নির্বাচন হয়েছে। ১৯৯২ সালে শেষবারের মতো জাকসু নির্বাচন হয়। কিন্তু ১৯৯৩ সালের ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবে ছাত্ররা শিক্ষকদের ওপর হামলা চালালে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ভেঙে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর ঘুরেফিরে আলোচনায় থাকলেও আলোর মুখ দেখেনি জাকসু নির্বাচন।

জানা যায়, ২০১৯ সালের শুরুর দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ঢাকসু) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে জাকসু নির্বাচনের দাবি জোরালো হয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ৩১ জুলাই প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারপরেও একদিকে জাকসু নির্বাচন হয়নি, অন্যদিকে অবসরে গেছেন অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

এদিকে দীর্ঘদিন জাকসুর সব কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও চূড়ান্ত পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছাত্র সংসদ ও হল সংসদের ফি আদায় করা হচ্ছে। সর্বশেষ ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ফি বাবদ ১৫ টাকা ও হল ছাত্র সংসদ ফি বাবদ ১৫ টাকা করে মোট ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন খাতে ব্যয় করা হচ্ছে, সেটা কেউ সুনির্দিষ্ট করে নিশ্চিত করতে পারেননি। অন্যদিকে দীর্ঘদিন জাকসুর নির্বাচন বন্ধ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অফিসার ও কর্মচারী সমিতির নির্বাচনসহ সব নির্বাচন সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বশেষ গত ২৬ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতি ও কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচন, ২৯ ডিসেম্বর শিক্ষক সমিতির এবং গত ৩০ ডিসেম্বর অফিসার সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত জাকসু নির্বাচনের দাবি জানান।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে এর আগে এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাকসু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তখন পরিবেশটা অন্যরকম ছিল। পরে করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়, ফলে নির্বাচন আর দিতে পারিনি। যেহেতু করোনা পরিস্হিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে, সেহেতু পর্যায়ক্রমে সব নির্বাচন দিতে পারব।’

ইত্তেফাক/বিএএফ