এই আধুনিক সময়েও কিছু মানুষ রয়েছেন যারা জীবন পার করছেন নৌকায়। নৌকায় ভেসে থেকেই মাছ শিকার করা তাদের সংগ্রামী জীবনের অংশ। নদীর পানিতে জীবনসংসার, সেখানেই জীবনের শেষ অধ্যায় তাদের। নিজস্ব ভূমি না থাকায় মৃত্যুর পর এই মানুষেরই দেহ পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ব্যতিক্রম জীবন-যাপনে অভ্যস্ত এ মানুষগুলো মুসলমান হলেও মানতা সম্প্রদায় নামে পারিচিত।
এদের ভাগ্যে শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্হানসহ মৌলিক চাহিদার অধিকার জুটেনি। তাদের স্যানিটেশন ব্যবস্হা, পুষ্টিকর খাদ্যের যোগান কিংবা বিশুদ্ধ পানির সুবিধা নেই।
জানা গেছে, সম্প্রতি তাদের রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বিয়ে হচ্ছে। মানতা সম্প্রদায়ের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সচেতনতা না থাকায় দিন দিন তাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাছ শিকারের সময় নৌকায় শিশু সন্তানকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত থাকেন তারা। যাতে পানিতে পড়ে ডুবে না যায়। বাল্য বিবাহ ও বহু বিবাহ তাদের অন্যতম রীতি।
বানারীপাড়ার সন্ধ্যা নদীতে নৌকায় বসবাসকারী ৪০টি মানতা পরিবারের সরদার মো. আবুল কাশেম সরদার জানান, তিনি এ পর্যন্ত পাঁচটি বিয়ে করেছেন। একাধিক বিয়ে করলে লাভ হয়। কারণ মাছ শিকারে পুরুষের চেয়ে মেয়েরা অভিজ্ঞ।
তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়ে বলেন, অনেকে আসেন কথা বলেন কিন্তু ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। আমরা যেমন নৌকাতে থাকি, তেমনিই আছি। তিনি জানান, বরিশাল জেলার বানারীপাড়াসহ এ সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার লোক নৌকায় বসবাস করছে।
মানতা সম্প্রদায় প্রসঙ্গে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা পার্থ সারথী দেউড়ী বলেন, মানতা নামে কাউকে সেবা প্রদানের কোনো নির্দেশনা আমাদের নেই। জেলে সম্প্রদায় যারা আছেন তাদেরকে সেবা দিচ্ছি। তারপরও আমি মানতাদের সঙ্গে কথা বলব।
উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, যারা জেলে পরিবার তাদের সরকার বিভিন্ন সেবা দিচ্ছে। মানতা সম্প্রদায় নামে এদের কোনো সেবা দেওয়ার সুযোগ নেই। সরকারি নির্দেশনা আসলে অবহেলিত এ সম্প্রদায়কে আমরা সেবা দিতে পারব।
মানতা সম্প্রদায় অধিকাংশই পৌর এলাকার। এদের বিষয়ে পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল বলেন, নদী বেষ্টিত পৌরসভার বাইরেও মানতা সম্প্রদায়ের অনেকে আছে। এরা বাংলাদেশের নাগরিক। মানতা নামে এদের স্বীকৃতি নেই। তবে জেলে হিসেবে তারা সরকারি সেবা পাচ্ছে। যেভাবেই হোক সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলররা তাদের এনআইডি কার্ড করিয়েছে। এদের সঙ্গে ভোটের বিষয় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার, ভূমিহীন কোনো নাগরিক গৃহহীন থাকবে না। সে অনুযায়ী জেলে বা বেদেদের সঙ্গে মানতা যোগ করে সরকারি সেবা দেওয়া যেতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা বলেন, মানতা সম্প্রদায় এ দেশের নাগরিক। তারা রাষ্ট্রীয় সব সুবিধা পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রথমে ভূমিহীন হিসেবে তাদের ঘরের জন্য আবেদন করতে হবে। তারপর জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য। তা হলে তাদের সরকারি সেবা মিলবে।
ইত্তেফাক/বিএএফ