ফিদে মাস্টার খেতাব পাচ্ছেন তাহসিন

নিজে খেলোয়াড়, সন্তানকে বিজ্ঞানী বানাতে চান। হাজারও উদাহরণ আছে। গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান জিয়া তার একমাত্র সন্তান তাহসিন তাজওয়ার জিয়াকে ভালো দাবাড়ু বানাতে চান। তার স্বপ্ন সুপার গ্র্যান্ডমাস্টার বানাবেন। ছেলেকে দাবায় এনেছেন।

বাপ-বেটা খেলছেন জাতীয় প্রিমিয়ার দাবায়। এই দুই জন কাল লড়াই করে ড্র করেছেন। খেলা হচ্ছে পুরানা পল্টন মোড়ের একটি হোটেলের ১১তলায়। বেশ ছিমছাম পরিবেশ। গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ, রিফাত বিন সাত্তার, আব্দুল্লাহ আল রাকিব, এনামুল হোসেন রাজিব তখনো খেলছিলেন। দাবা বোর্ডে মগ্ন। নিজেদের খেলা শেষ হওয়ায় জিয়া তার স্ত্রী তাসমিম সুলতানা এবং ছেলে তাহসিন তাজওয়ার বাসায় রওনা দিয়েছেন। পরে ফোনে জিয়া জানালেন তারা দুই জন একমত হয়েই ড্র করেছেন। কেউ রিস্ক নিলাম না।  কেন? জিয়া বললেন, কালকে (আজ) আমাদের দুই জনেরই গুরুত্বপূর্ণ খেলা রয়েছে। বিশ্রাম নেওয়া দরকার। 

সুখবরটা দিলেন জিয়া। ক্যান্ডিডেট মাস্টার তাহসিন ফিদে মাস্টার খেতাব অর্জন করতে যাচ্ছেন। কালকের ড্রয়ে তাহসিন ২৩০০ রেটিং স্পর্শ করেছেন। জিয়া বললেন,তাহসিন এখন ফিদে মাস্টারের জন্য আবেদন করবে। এটাতো খুবই ভালো খবর ! জিয়া বললেন, হ্যাঁ সুখবরই। 

জাতীয় প্রিমিয়ার দাবার প্রথম রাউন্ডে গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজিবের বিপক্ষে হেরেছেন তাহসিন। গতকাল জিয়ার সঙ্গে ড্র করার আগে গ্র্যান্ডমাস্টার রাকিবকে হারিয়েছেন, গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজের বিপক্ষে ড্র এবং ফিদে মাস্টার মেহেদি হাসান পরাগকে হারিয়েছেন তাহসিন। তাহ-সিনের বয়স এখন ১৬। পড়ছেন মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোশেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

তাহসিন তার বাবার সঙ্গে অনেক বারই খেলেছেন। বাসায় খেলেছেন কিন্তু প্রথম যখন অফিসিয়াল ম্যাচে এক বোর্ডে বসেছেন তখন বাবাকে অচেনাই মনে হচ্ছিল। তাহসিন বললেন, ২০১৬ সালে লিগের ম্যাচে খেলেছিলাম শুরুর আগেই নার্ভাস লাগছিল। তার পরও বাবার সঙ্গে খেলতে ভালো লাগে। অনেক বার হারিয়েছি বাবাকে। সেটা বাসায়। অফিসিয়াল কোনো ম্যাচে বাবাকে হারাতে পারিনি। 

ছেলে তাহসিন বাবার মতোই। কম কথা বলেন। দাবা খেলতে গিয়ে স্কুলের পরীক্ষা মিস হয়। স্কুল হতে তাহসিনকে সহযোগিতা করা হয় বলে জানালেন জিয়া। জিয়ার বাবা পয়গাম উদ্দিন দাবাড়ু ছিলেন। বুয়েটে পড়ার সময় ৮৪ সালে জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়নশিপেও খেলেছেন। বাবার প্রেরণায় জিয়া দাবাড়ু হলেও তাহসিনকে নিয়ে জিয়া বললেন, দাবায় ওর (তাহসিন) খুব আগ্রহ ছিল। আমার সঙ্গে জিতলে খুব খুশি হয়। আমার টার্গেট থাকে আমি ফাইট করব। কিন্তু মাঝে মধ্যে প্রেসার মনে হয়। তাহসিন বিরিয়ানী পছন্দ করে। জিয়া বললেন, খেলার আগে বিরিয়ানী খাওয়া উচিত না। ফল কিংবা ফলের রস খাওয়া ভালো। 

যারা দাবায় যাওয়া-আসা করেন, তাদের চোখে পড়বে জিয়া ও তার ছেলে তাহসিন দাবায় নিজ নিজ প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়ছেন। সীমাহীন ধৈর্য্য নিয়ে স্বামী ও পুত্রের অপেক্ষায় দাবা আঙ্গিনায় বসে থাকেন তাসমিমা সুলতানা। প্রচার বিমুখ জিয়া বললেন, আমি ক্রিকেটারের মতো পপুলার না। অনেকের মতো রিচ না। আমি আমার জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট।