অভিনয় ও নাটক নির্মাণের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাতা পরিচয় নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করলেন মীর সাব্বির। বছরের শেষদিন মুক্তি পেয়েছে তার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘রাতজাগা ফুল’। নিজের প্রথম চলচ্চিত্র মুক্তি, দর্শক প্রতিক্রিয়াসহ নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ এম রুবেল
- আপনার ‘রাতজাগা ফুল’ ছবিটি দিয়ে নতুন বছর শুরু করলো সিনেপ্রেমীরা। ছবিটি নিয়ে জানতে চাই...
ছবিটি অনেক আগেই মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় সেটা হয়ে ওঠেনি। তবে অবশেষে ছবিটি পর্দায় আনতে পেরে দারুণ ভালো লাগছে। তাছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পাওয়া ছবিগুলোর মাঝে আমার ‘রাতজাগা ফুল’ প্রথম মুক্তি পেয়েছে, এটাও একটা অর্জন।
- ছবিটি মুক্তির পর দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?
আলহামদুলিল্লাহ! ছবিটি মুক্তির পর থেকেই দারুণ সাড়া পাচ্ছি। বছরের শেষ ছবি হিসেবে দেশের ২৯টি সিনেমা হলে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। যা এই হল সংকটের সময়ে সবার জন্যই আনন্দের খবর। আমি আগেই বলেছিলাম, ছবিটির গল্পই দর্শকদের হলে নিয়ে আসবে। ছবিটি আমি নিজেও হলে বসে দেখেছি দর্শকদের সঙ্গে। সেখানে তাদের আবেগ-আপ্লুত হওয়া দেখে মুগ্ধ হয়েছি। তাছাড়া ঢাকার বাইরে থেকেও দর্শকরা তাদের ভালোলাগার কথা জানাচ্ছেন। প্রশংসা করছেন ছবিটির। চেষ্টা করেছি ছবিটির গল্পে দেশের ঘ্রাণ রাখার। আমাদের প্রকৃতি, প্রেম-ভালোবাসা, ঘাত-প্রতিঘাতসহ বেশকিছু বিষয় উঠে এসেছে ছবিটিতে। দর্শকরাও ছবিটি দেখার পর বলছেন তাদের গল্প দেখলেন পর্দায়। দর্শকদের প্রতিক্রিয়ায় আমি সত্যিই খুব খুশি। মনে হচ্ছে, যুদ্ধ জয় করতে যাচ্ছি।
- ছবিটি বিজয়ের মাসের শেষদিন মুক্তি দেওয়ার বিশেষ কোনো কারণ ছিল কী?
বছরের শেষদিন মুক্তির তেমন কোনো কারণ ছিল না। তবে জীবনের প্রথম ছবি নির্মাণ করতে গিয়ে মনে হয়েছে ছবি নির্মাণও এক ধরনের যুদ্ধ। তাই চেয়েছি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বিজয়ের মাসে ছবিটি মুক্তি দিতে।
- ছবিটি নির্মাণের পাশাপাশি এতে অভিনয়ও করেছেন। দুটি চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না?
হ্যাঁ, অবশ্যই ঝুঁকি ছিল। তবে আমি ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই চ্যালেঞ্জিং কাজ করার চেষ্টা করেছি। কাজের ক্ষেত্রে কখনো আপোস করতে চাইনি। সেই ধারাবাহিকতা ক্যারিয়ারের প্রথম চলচ্চিত্রেও রাখার প্রত্যয় ছিল। তবে অভিনয় ও নির্মাণ ভিন্ন দুটি বিষয় হওয়ায় মানসিক এবং আর্থিক নানা চাপ সামলাতে হয়েছে। নতুন সাব্বিরকে উপস্থাপন করতে গিয়ে কতটা পরিশ্রম করেছি সেটা শুধু আমিই জানি। কিন্তু ভালো লাগছে এই ভেবে যে, প্রথম লুক প্রকাশ থেকে মানুষের যে প্রশংসা পেয়েছি, তা মুক্তির পরও অব্যাহত আছে।
- সাধারণত গল্পনির্ভর চলচ্চিত্র দর্শক টানতে পারে না। সেক্ষেত্রে আপনার চলচ্চিত্রটি ব্যতিক্রম উদাহরণ তৈরি করছে। তাহলে কী আমাদের দর্শক রুচির পরিবর্তন হচ্ছে?
দেখুন, ভালো গল্প, নির্মাণ, অভিনয় হলে দর্শক হলে আসেন। সেটা আগেও অনেক ছবির ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি। তবে এটাও অস্বীকার করব না যে, দর্শকরা এখন কিছুটা হলেও বাস্তবধর্মী কাজের দিকে ঝুঁকছেন। তাছাড়া এটাও সত্য, প্রতিটি ছবিই কিন্তু বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়। আমিও সেই পথেই হেঁটেছি। বলতে পারেন, দর্শকদের কথা মাথায় রেখেই একজন নির্মাতা নির্মাণ করেন।