সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ শহীদ বুদ্ধিজীবীকন্যার

স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে পারিবারিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক জ্যোর্তিময় গুহঠাকুরতার কন্যা মেঘনা গুহঠাকুরতা। সোমবার (৩ জানুয়ারি) সকালে ওই স্ট্যাটাসে স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বরিশালের বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন জমির দেওয়াল ভেঙে দেওয়া নিয়ে এ অভিযোগ তুলেন তিনি।

জমি দখল নিয়ে দেওয়া স্ট্যাটাসের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মেঘনা গুহঠাকুরতা দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘জমিটা আমার ভাই অনুপ কুমার গুহর। এই জমিটা বানারীপাড়া বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন। বালিকা বিদ্যালয়ের অনেক জমিই আছে, তারমধ্যে আমাদের নিজেদের জমিও আছে। আমার বাবার জমিও আছে, যেটা আমার বাবা অনুদান করেছিল। আর ওই স্কুল সংলগ্ন জমিটা ৫ শতাংশ। তারমধ্যে একটা দেয়াল দেওয়া ছিল। গতকাল রবিবার (২ জানুয়ারি) সাড়ে ৪ টার দিকে দেয়াল ভেঙে দখলে নেয়। এটির ছবি তুললে বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম (বানারীপাড়া-উজিরপুর) নিজে তার লোকজন দিয়ে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ছবিগুলো ডিলেট করে দেয়।’

ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, 'গতকাল (রবিবার, ২ জানুয়ারি) বিকাল ৪.৩০ দিকে বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম (বানারীপাড়া-উজিরপুর) তিনি দাড়িয়ে থেকে আমার ৫ শতাংশ জমি যাহার বাজার মূল্য কোটি টাকা তা বালিকা বিদ্যালয় নামে দখল করে নিয়েছে। তিনি বর্তমানে বানারীপাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। এই জমির অংশ থেকে দশমিক ৮ (আট) শতাংশ জমি আমরা বানারীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের জন্য সরকারকে দিয়েছি এবং ডি সি বরিশাল সরকারের পক্ষে এই আট শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করে। তার পূর্ব পাশে এই জমির অংশ পাঁচ শতাংশ জমি ছিল, যা তিন দিকে পাকা ওয়াল ছিল, ৩০-১৬ ফুট ছাদ সহ পাকা স্থাপনা ছিল এবং এক দিকে টিনের বেড়া ছিল, যা গতকাল ও আজকে ভেঙে দিয়ে দখলে নিচ্ছে। আমি বাধা দিলে সে কয়েকবার বলেছেন এখান থেকে চলে যেতে, না হলে আমাকে মারবে। আমি এই দখল ও স্থাপনা ভাঙ্গার ছবি তুললে তার লোকজন দিয়ে আমার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ছবি গুলো ডিলেট করে দেয়। দখলকৃত জমির পরিচয় ৪২ নং বানারীপাড়া মৌজায় ২৫৯ নং খতিয়ানের ৫২৫ নং দাগের অংশ। জমির পরিমাণ ৫(পাঁচ) শতাংশ। জমির রেকর্ডীয় মালিক ১। অনুপ কুমার গুহ, ২।পল্লব কুমার গুহ।'

মেঘনা গুহঠাকুরতার ফেসবুক স্ট্যাটাস

এ ব্যাপারে সম্পত্তির মালিক অনুপ কুমার গুহ জানান, ওই সম্পতি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। সম্প্রতি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের জন্য ৮ শতক জমি অধিগ্রহণ করে এবং পাকা ভবন ভেঙে ফেলে। ভবনের বাকি ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১৬ ফুট প্রস্থ পাকা ভবনসহ তিন পাশের প্রাচীর রবি ও সোমবার ভেঙে বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাইন বোর্ড লাগিয়ে দেয়। ওই সম্পত্তির পাকা ভবনে হাইকোর্টের অমার এবং আমার ভাই পল্লব কুমার গুহের পক্ষে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড ছিল।

অনুপ কুমার জানান, জবর দখলে বাধা দিলে বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. শাহে আলম বিভিন্ন হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করতে বলেন। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার কথা জানালে তিনি বলেন, 'রাখ তোর হাইকোর্ট। এ সময় তার ক্যাডাররা সেখানে উপস্থিত ছিল।'

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, জমির একাংশ মুক্তিযোদ্ধা কমপেক্স অধিগ্রহন করার পর বাকিটুকু অন্যত্র বিক্রির কথা জানতে পেরেই সংশ্লিষ্টরা এ উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে আলোচনার মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ বা জমির মালিকপক্ষ তা বিদ্যালয়কে দান করলে দাতা সদস্য থেকে যাবেন। 

এদিকে মেঘনা গুহঠাকুরতার অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল-২ আসনের এমপি ও বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. শাহে আলম ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ওই জমিতে বানারীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ছিল। স্কুলের পুরো জায়গাটা মেঘনা গুহঠাকুরতার বাবা শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক জ্যোর্তিময় গুহঠাকুরতা দিয়েছিলেন। অনুম কুমার গুহঠাকুরতা ওনার নাম ব্যবহার করে সমস্যার সৃষ্টি করছেন। জ্যোর্তিময় গুহ এই জমি দান করলে পুরো জায়গাটা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জন্য অধিগ্রহণ করে সরকার। সে জায়গায় এখন বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরপরও আমরা ওনাদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করতে চাই।

লোকজন দিয়ে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ছবিগুলো মুছে ফেলা ও হুমকির অভিযোগের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, স্কুলের সভাপতি ও সেক্রেটারি ছিল। এমন কোনো বিষয় সেখানে ঘটেনি। এরপরও আমরা প্রয়োজনে মেঘনা গুহঠাকুরতার সঙ্গে কথা বলতে রাজি। ওনার সঙ্গে কথা বললে আর এমন সমস্যা থাকবে না বলে আমার বিশ্বাস।

জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জগন্নাথ হলের আবাসিক শিক্ষক্ষের দায়িত্ব পালন কালে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের গণহত্যার সময় পাকাহানাদার বাহিনী কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হয়ে চারদিন চিকিৎসা শেষে মৃত্যুবরণ করেন। তার একমাত্র মেয়ে মেঘনা গুহঠাকুরতা তাদের পরিবারের এ জমি দখলের কথা উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরেন।