হংকংয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আরো একটি সংবাদমাধ্যম। সিটিজেন নিউজ নামে এ সংবাদমাধ্যমটি আজ (মঙ্গলবার) থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর আগে আরো দুটি সংবাদমাধ্যম বন্ধ হয়ে যায়। অনেক দিন ধরেই সেখানে সাংবাদিকদের ব্যাপকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদ সংস্হা।
গতকাল সিটিজেন নিউজের এক ঘোষণায় বলা হয়, মঙ্গলবার থেকে তারা তাদের সংবাদমাধ্যমটি বন্ধ করে দিচ্ছেন। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। তাদের নানাভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। তাই এটি বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।
সম্প্রতি গ্রেফতার করা হয়েছে স্ট্যান্ড নিউজের সাবেক ও বর্তমান সাত সাংবাদিককে। এমনকি বন্ধ করে দেওয়া হয় সংবাদমাধ্যমটি। এমন পরিস্হিতিতে হংকংয়ের সাংবাদিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সাংবাদিকতার পরিস্হিতি অবনতি হওয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে সিটিজেন নিউজ জানায়, কর্মীদের কথা চিন্তা করেই কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিটিজেন নিউজ হংকংয়ের বৃহত্তম স্বাধীন সংবাদমাধ্যম। ২০২১ সালের জুন মাসে বন্ধ হয় অ্যাপল ডেইলি। আর এখন বন্ধ হচ্ছে সিটিজেন নিউজ।
সংবাদমাধ্যমটি তাদের এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, সবার নিরাপত্তার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ গত দুই বছরে হংকংয়ে অনেক পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে মিডিয়ার ওপর চাপও বেড়েছে।সুতরাং এমন পরিস্হিতিতে কাজ করা সম্ভব নয় বলেও জানায় নিউজ কর্তৃপক্ষ।
গত বুধবার রাষ্ট্রদ্রোহী সংবাদ প্রকাশের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে স্ট্যান্ড নিউজের কিছু সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়। সে সময় দুই শতাধিক পুলিশ পত্রিকা অফিসটিতে তল্লাশি চালায়। তাদের মধ্যে দুই জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনেছে পুলিশ| তারা দুই জনেই গণতন্ত্রপম্হি সংবাদমাধ্যমটির সাবেক সিনিয়র সম্পাদক।
১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকংকে চীনের কাছে ফিরিয়ে দেয় ব্রিটেন। সে সময় করা চুক্তিতে বলা হয়েছিল যে, স্বায়ত্তশাসিত এ অঞ্চলটিতে যেন সমাবেশ ও বাক্স্বাধীনতার পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়। সমালোচকরা বলছেন, হস্তান্তরের ২৫ বছর পার হলেও এই ভূখণ্ডের মানুষ সে অধিকার পায়নি। সাম্প্রতিক মাসগুলো ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তারই প্রমাণ বহন করছে।