উত্তরাঞ্চলে ঘন কুয়াশা

দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন 

ঘন কুয়াশাসহ ঠান্ডা বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে উত্তরের জনপদ। দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছেন বিপাকে। অনেক স্থানে বোরো ধানের বীজতলা রক্ষার জন্য পলিথিনে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর): ফুলবাড়ীতে তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুরসহ শ্রমজীবী মানুষ। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে ছোট-বড় যানবাহন। সোমবার ভোর থেকেই তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার সঙ্গে সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহের কারণে পৌর শহর ছিল প্রায় জনশূন্য। হাটবাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। উপজেলার

শিবনগর ইউনিয়নের ডাংগাপাড়া গ্রামের খেতমজুর উর্মি মুমু‌র্ ও তিলাইপাড়া গ্রামের সাবিনা বাস্কে বলেন, তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের কারণে কৃষিজমিতে অবস্থান করতে পারছেন না বলে কাজও করতে পারছেন না। এ কারণে গত দুই দিন থেকে বেকার অবস্থায় বাড়িতে বসে আছেন।

পৌর শহরের রিকশাচালক আব্দুর রশিদ ও মোন্নাফ হোসেন বলেন, বর্তমান অবস্থায় শহর জনশূন্য হয়ে পড়ায় তারা যাত্রী পাচ্ছেন না। ফলে সকাল ৭টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্থানীয় ননীগোপাল মোড়ে অবস্হান করেও একজন যাত্রীও পাননি। 

দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সোমবার দিনাজপুরের তাপমাত্রা ছিল ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে নওগাঁর বদলগাছিতে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, শীতের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ঈশ্বরদী (পাবনা): ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে ঈশ্বরদীর জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের বেলাও আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছেন দরিদ্র মানুষেরা। কনকনে ঠান্ডায় বৃদ্ধ এবং শিশুরা বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। ইতোমধ্যেই কোল্ড ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগে অনেকেই আক্রান্ত হয়েছে। 

পরিবার পরিকল্পনার শিশু চিকিত্সক ডা. আব্দুল বাতেন জানান, ডায়রিয়া এবং ঠান্ডাজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক শিশুদের চিকিত্সা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এদিকে অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে বোরো জমির বীজতলা পলিথিনে ঢেকে রাখা হয়েছে। রাতে পানি দিয়ে সকালে বের করে দেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার জানিয়েছেন।

সৈয়দপুর (নীলফামারী): কনকনে ঠান্ডায় নাকাল সৈয়দপুরের মানুষ। বিশেষ করে করে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। দুপুর ১২টার দুই-তিন ঘণ্টা পর সূর্যের দেখা মিললেও বিকালের পর থেকে শীতে জবুথবু হয়ে পড়ছে মানুষ ও প্রাণীকুল। 

সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, এর মধ্যে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শীতের তীব্রতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। আরো কয়েক দিন এমন অবস্থা বিরাজ করতে পারে।

জয়পুরহাট: জেলায় সকাল থেকে সূর্যের দেখা নেই। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা জয়পুরহাটে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভিড় লক্ষ করা গেছে রেলওয়ে হকার্স মার্কেটের শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে। রবিবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে জমিতে থাকা আলুতে লেটব্রাইট রোগ দেখা দিতে পারে। এ জন্য ছত্রাকনাশক ছিটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।