চিকিৎসক ও জনবলসংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত 

কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলের সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। জানা গেছে, ১০ বছর আগে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু শঘ্যাসংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি ৫০ শয্যার প্রয়োজনীয় জনবল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে ১ম শ্রেণির ২৯টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১৪ জন, ২য় শ্রেণির ২৮টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ২২ জন, ৩য় শ্রেণির ১৪২টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৫৫ জন, ৪র্থ শ্রেণির ২৯টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১২ জন। এখানে ১৪ জন ডাক্তার কর্মরত দেখানো হলেও জুনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যানেসথেসিয়া প্রেষণে রয়েছেন নীলফামারী সদর হাসপাতালে এবং তিন জন ডেপুটেশনে।

এছাড়াও ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে জুনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জারি, জুনিয়র কনসালট্যান্ট মেডিসিন, জুনিয়র কনসালট্যান্ট কার্ডিওলজি, জুনিয়র কনসালট্যান্ট অর্থোসার্জারি, জুনিয়র কনসালট্যান্ট শিশু, জুনিয়র কনসালট্যান্ট চক্ষু, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ইএনটি, জুনিয়র কনসালট্যান্ট চর্ম ও যৌন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও কোনো কনসালট্যান্ট ডাক্তার নেই। 

উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম বারী পাইলট বলেন, আমাদের উপজেলার অনেক মানুষ দরিদ্র। তাদের বেশির ভাগই সরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে হাসপাতালে চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের সংকটের কারণে রোগীরা সেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই উপজেলাবাসীর সুবিধার্থে সুচিকিৎসার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা স্বাস্হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবু শফি মাহমুদ জানান, হাসপাতালে দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসছে। কাগজে কলমে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল থাকলেও চলছে ৩১ শঘ্যার জনবল দিয়ে। ওয়ার্ড বয় আছে শুধুই এক জন। যেটুকু জনবল আছে তা দিয়েই আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। 

তারপরেও আমরা চিকিত্সাসেবা দিতে অনেক সময় হিমশিম খাচ্ছি। রোগীদের চাপ সামলাতে সব শূন্য পদের চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। আশা করি অচিরেই নিয়োগ হলে রোগীদের আরো উন্নত সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।