জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) দুদকের বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দুদকের অনুসন্ধানে মঞ্জুরুল আলমের ব্যয়সহ সম্পদ মিলেছে ১৮ কোটি ৮ লাখ ৬২৩ টাকার। এর মধ্যে বৈধ আয় ৮ কোটি ২০ লাখ ৪৯ হাজার ২৮৬ টাকা। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ৯ কোটি ৮৭ লাখ ৫১ হাজার ৩৩৭ টাকা।
দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয় ২০১৯ সালে। ওই বছরের ২৬ জুন মঞ্জুরুল আলমের কাছে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। ১৮ আগস্ট তিনি দুদকে ১৫ কোটি ৫৭ লাখ ৪৮ হাজার ৭৪৬ টাকার সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। কিন্তু দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার ১৫ কোটি ৮১ লাখ ৪৫ হাজার ১৩১ টাকার সম্পদের হদিস মেলে। দাখিলকৃত প্রতিবেদন যাচাই করে ২৩ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার তথ্য-প্রমাণ মেলে। একই সঙ্গে ৯ কোটি ৮৭ লাখ ৫১ হাজার ৩৩৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়।
আমিনুল ইসলাম বলেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের ২৬ এর ২ এবং ২৭ এর ১ ধারায় মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘আমার অবৈধ কোনো আয় ও সম্পদ নেই। সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগও ভিত্তিহীন। আমার স্থাবর-অস্থাবর যা কিছু রয়েছে, সবই বৈধভাবে উপার্জিত। দুদকের নোটিশ পাওয়ার পর আইনজীবীর মাধ্যমে যাবতীয় তথ্য-উপাত্তসহ সম্পদ বিবরণী দাখিল করেছি, সম্পদের সব তথ্য দিয়েছি। দুদকের কর্মকর্তারা যখন যে কাগজপত্র চেয়েছেন, তা সরবরাহ করেছি।’