উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে টানা চার দিন ধরে হিমেল হাওয়া ও কনকনে ঠাণ্ডায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বৃষ্টির মতো ঝরছে শিশির। দুপুর গড়িয়ে গেলে সূর্যের মুখ দেখা গেলেও রোদের উত্তাপ তেমনটা অনুভূত হয় না। ফলে এ জনপদে সাধারণ খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষজন পড়েছে চরম বিপাকে। বেশি বিপদে পড়েছেন গ্রাম ও চরাঞ্চলের গরিব মানুষ। ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। ঠাণ্ডাজনিত রোগ বিশেষ করে জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে হাসপাতালে অনেকে ভর্তি হচ্ছেন। এদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেশি।
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের নাওডাঙ্গা গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুর সাত্তার জানান, ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে চলাচল বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠান্ডার কারণে দুই-তিন দিন ধরে কোনো রকমেই মালামাল বহন করছি। কুরুষাফেরুষা গ্রামের কৃষি শ্রমিক ছাইদুল ইসলাম ও মন্টু চন্দ্র বর্মণ জানান, কুয়াশা আর শীতের কারণে সময়মতো কাজে যোগ দিতে পারছেন না তারা। কাজে যেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা দেরি হচ্ছে। এছাড়া ঠাণ্ডায় কাজ করতেও সমস্যা হয়, হাত-পা জমে যায়।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, বুধবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হিমেল হাওয়া ও কনকনে ঠাণ্ডায় এ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। এই শৈত্যপ্রবাহ আরো তিন-চার দিন থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত জানান, প্রতিদিন গরিব-অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ চলছে। আশা করছি শীতে মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।
এদিকে, নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, নাগেশ্বরীতে গত কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশার সঙ্গে বইছে মৃদুমন্দ বাতাস। কমছে তাপমাত্রা। হিমশীতল ঠাণ্ডায় কাঁপছে জীবকুল। বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। গত এক সপ্তাহ ধরে কুয়াশা মুড়ি দিয়ে সকাল আসে অনেক দেরিতে। সূর্যের আলোর দেখা মেলে বেলা ১১টার পরে। এদিকে সন্ধ্যা নামে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে। তার আগেই ফাঁকা হয়ে যায় রাস্তাঘাট।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, তিন দিন ধরে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ওঠানামা করছে। বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।