মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্য সেন্টার অফ ইন্টিগ্রেটেড মেডিসিনের কনসালটেন্ট বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান চিকিৎসক প্রফেসর মুজিবুল হক বলেছেন, ‘মানুষের রোগ একবারে হয়না। দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাস জীবনাচার এবং সামগ্রিকভাবে তার লাইফ স্টাইলের উপর নির্ভর করে যদি কোন ব্যক্তি পরিপূর্ণ সুস্থ হতে চান এবং নিজেকে সুস্থ ভাবে রাখতে চান তবে তাকে সবার আগে গতানুগতিক ওষুধ নির্ভরতা কমিয়ে পুষ্টি এবং খাদ্যাভাসকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে তার জীবনের রুটিন সাজাতে হবে।’
মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত করোনাকালীন স্বাস্থ্য সমস্যা এবং প্রতিকারের উপায় শীর্ষক এক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
আমেরিকান সেন্টার ফর রিজেনারেটিভ হেলথ এর উদ্যোগে এই সেমিনারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে ডাক্তার মুজিবুল হকের তত্ত্বাবধায়নে চিকিত্সা গ্রহণ করে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগী তাদের সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
ডা. মুজিবুল হক বলেন, সুস্থ থাকার জন্য আমাদের মেডিক্যাল চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা আছে। তবে এর পাশাপাশি পরিক্ষিত পুষ্টির সমন্বয় রিজেনারেটিভ মেডিকেল থেরাপি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ন্যাচারাল মেডিসিন এবং সর্বোপরি লাইফ স্টাইল মডিফিকেশন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তার মতে ওষুধ আমাদেরকে সাময়িকভাবে সুস্থতা দান করলেও দীর্ঘমেয়াদী এর নানাবিধ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এমতাবস্থায় গতানুগতিক ওষুধের পরিমাণ যথাসম্ভব কমিয়ে ন্যাচারাল মেডিসিন তথা স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের উপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মানুষ অধিক খাবারের ফলে সুস্থ হয় না বা স্বাস্থবান হয় না বরং অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং সেই খাবারটি যদি স্বাস্থ্যসম্মত না হয় তবে তো এর ভয়াবহতা আরো মারাত্মক আকার ধারণ করে।
তার মতে, ফাস্টফুড তথা জাঙ্ক ফুড পরিহার করে আমরা যদি প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত খাবার তথা মেডিসিনমুক্ত কেমিক্যালমুক্ত মাছ, মুরগি, গরু আমরা সবে খেতে পারি কিন্তু যদি কেমিক্যাল যুক্ত খাবার খাওয়া হয় তবে ওই কেমিক্যালের কারণে শরীরে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয় যা আমাদেরকে আজীবন ভোগায়। এক্ষেত্রে তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার এ অভ্যস্ত হয়ে ওঠার জন্য এবং দৈনন্দিন জীবনে কাজ কর্ম পরিকল্পনার মূল্যকে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে সাজানোর জন্য পরামর্শ দেন।
ইত্তেফাক/বিএএফ