আনন্দে ভাসছে ক্রিকেটার ইবাদতের গ্রাম

ইবাদত হোসেন চৌধুরী। নিউজিল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেওয়ার নায়ক। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টানা ৩২ হারের অবসান ঘটে বাংলাদেশের। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সেরা জয় পায় বাংলাদেশ।

দুই ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে দলকে জেতাতে বড় ভূমিকা রাখা ইবাদত ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জিতেছেন। ইবাদতের এমন অর্জনে আনন্দে ভাসছে তার পুরো গ্রাম। ইবাদতের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউপির কাঠালতলী গ্রামে।

বুধবার (৫ জানুয়ারি) রাতে কাঠালতলী বাজারে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও কেক কেটে আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। বুধবার বিকেলে ইবাদতের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেলো আনন্দোৎসব। মহাখুশি পরিবারের সবাই।

ইবাদতের স্বপ্ন ছিল একদিন জাতীয় দলের হয়ে ক্রিকেটে খেলে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন। সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। তিনি দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।

ইবাদতের বাবা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী ও মা সামিয়া বেগম চৌধুরী বলেন, ‘লেখাপড়ার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই খেলার প্রতি ওর আলাদা টান ছিল। সারাদিন ক্রিকেট খেলত। স্বপ্ন ছিল একদিন জাতীয় দলের হয়ে খেলবে। আজ আমার ছেলে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশকে জিতিয়ে সে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। ওর এমন পারফরমেন্সে আমরাও খুশি। এলাকার মানুষও খুশি।’

কাঠালতলী ক্রিকেট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ ও সোনার বাংলা ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘ইবাদতের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আজ বাংলাদেশ অবিস্মরণীয় জয় পেয়েছে। সে আমাদের  এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে। তাকে নিয়ে আমরা গর্বিত।’

ইবাদত হোসেন চৌধুরীর বাবা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বর্ডার গার্ডে (বিজিবি) চাকরি করতেন। আর মা সামিয়া বেগম চৌধুরী গৃহিণী। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে ইবাদত দ্বিতীয়। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট খেলার প্রতি তার আলাদা টান ছিল। স্থানীয় বিভিন্ন ক্রিকেট ক্লাবে খেলেছেন ইবাদত। ভালো বোলিং করতেন বলে এলাকার বাইরেও তার নামডাক ছড়িয়ে পড়ে।

ইবাদতের গ্রামে কেক কাটা হচ্ছে।

এসএসসি পাস করে ২০০৮ সালে সৈনিক পদে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগ দেন ইবাদত। চাকরির পাশাপাশি বিমান বাহিনীর দলে নিয়মিত ভলিবল খেলতে শুরু করেন। কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি তার টান মোটেও কমেনি। ২০১৬ সালে রবি পেসার হান্টের শেষ রাউন্ডে ১৩৯.০৯ কিলোমিটার গতিতে বল করে সবাইকে চমকে দেন ইবাদত। এরপর থেকে তাকে আর পেছনে থাকাতে হয়নি। ২০১৯ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইবাদতের অভিষেক হয়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই তার টেস্টে অভিষেক হয়।

এদিকে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও কেক কাটার সময় সামাজিক সংগঠন কেএসকেপির উপদেষ্টা আবুল হাসান, খালেদ আহমেদ, জাগরণ সমাজকল্যাণ যুব সংঘের সভাপতি শাহরিয়ার জামান খালেদ, কেএসকেপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দেলওয়ার হোসেন চৌধুরী ইমন, ভারপ্রাপ্ত  সভাপতি শাহাবুদ্দিন লিটন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাজু, কাঠালতলী ক্রিকেট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ, সোনার বাংলা ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ, ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি কাওসার আহমেদ রনি, ছাত্রদল সভাপতি সাব্বির আবির, ক্রীড়া সংগঠক জাকির হোসেন রাসেল, হান্টার বয়েজ ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি শাহ আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।