নাসিক নির্বাচনে আইভী ও নৌকার বিকল্প নাই: শেখ পরশ

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, নাসিক নির্বাচনে নৌকার যেমন কোনো বিকল্প নাই, সেলিনা হায়াৎ আইভী'রও কোনো বিকল্প নাই। শনিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ড সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি পুল বাজার সংলগ্নে নৌকা মার্কার প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী’র পক্ষে নির্বাচনি পথসভায় উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল  হোসেন খান নিখিল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি টানা ১৯ বছর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন প্রশাসনের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা মনোনীত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নৌকার প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। আমি মনে করি, এটা অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন। এই নির্বাচনে নৌকার যেমন কোনো বিকল্প নাই, সেলিনা হায়াৎ আইভী'রও কোনো বিকল্প নাই। ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে প্রথম নারী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। তিনি গত দুই দশক ধরে নারায়ণগঞ্জবাসীর সেবা করে যাচ্ছেন। নেত্রীর এই সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, তিনি সৎ, মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থী বেছে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জবাসীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য।

তিনি বলেন, ডা. আইভী'র সবচেয়ে বড়ো শক্তি তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি। নারায়ণগঞ্জে তার যে ভাবমূর্তি তা আজ আমাদের নৌকার জয়ের পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তাছাড়া তিনি সততা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার অবস্থান, সাধারণ মানুষের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতার কারণে একটা নিজস্ব ভোটব্যাংকও তার রয়েছে। নারী ভোটারদের কাছে তার জনপ্রিয়তা আমাদের জয়ের জন্য আরেকটা মুখ্য ভূমিকা রাখবে। আমরা যদি নারী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে পারি, তাহলে ১৬ তারিখে নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। আমি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ মহানগর যুবলীগের সকল নেতৃবৃন্দকে বলতে চাই, আপনারা যেভাবেই কাজ করুন, এই নির্বাচনকে হালকাভাবে দেখার  কোনো সুযোগ নাই।

যুবলীগ চেয়ারম্যান আরও বলেন, এই নির্বাচন অবশ্যই একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। নির্বাচনের সকল বিধিনিষেধ মেনে শেষদিন পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। এই নির্বাচনে জয়লাভ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিএনপি-জামাতকে সঙ্গবদ্ধ হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হবে যদি কোনো কারণে নৌকা পরাজিত হয়। নারায়ণগঞ্জ  ভৌগোলিকভাবে এমন একটি জায়গায় অবস্থিত যেখান থেকে সরকারকে যেকোনো মুহূর্তে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা যায়। তাই এই নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতি জন আস্থা আমাদের বিজয় এনে দিবে। ফোর্বসের এক জরিপ অনুযায়ী ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের ২৪ নম্বর বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে। এই পূর্বাভাস বাস্তবে রূপদান করতে হলে আপনাদের নৌকায় ভোট দিতে হবে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন এসকল কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল পথসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইশতেহার অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুকন্যা, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে দক্ষ, সেবামূলক ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর মধ্য দিয়ে অদম্য গতিতে কাজ করে চলেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রেখেছেন। সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা তার একমাত্র উদ্দেশ্য। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ। সেই লক্ষে নারায়ণগঞ্জবাসী আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পথসভা শেষে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন এবং জনগণের মাঝে লিফলেট বিতরণ করে নৌকা মার্কার প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী’র পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু আহমেদ নাসিম পাভেল, মোয়াজ্জেম হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিআইপি সুব্রত পাল, রফিকুল আলম জোয়ার্দার সৈকত, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল পারভেজ, আবু মুনির মো. শহিদুল হক চৌধুরী রাসেল, ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনুদ্দিন রানা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজা, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক মোঃ  মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক শামসুল আলম অনিক, আন্তর্জাতিক সম্পাদক কাজী সারোয়ার হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার শাহজাদা, উপ-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক এন আই আহমেদ সৈকত, উপ ধর্ম সম্পাদক হরে কৃষ্ণ বৈদ্য, সহ সম্পাদক-তোফাজ্জল হোসেন তোফায়েল, আব্দুর রহমান জীবন, এহতাসামুল হাসান ভূইয়া রুমি, কার্যনির্বাহী সদস্য-মহিউদ্দিন খোকা মজুমদার, এবিএম আরিফ, ব্যারিস্টার মৌসুমি ফাতেমা, অলিদ  হোসেন, মজিবুর রহমান মুজিব, ইঞ্জিনিয়ার মোক্তার হোসেন চৌধুরী কামাল প্রমুখ।