যুক্তরাষ্ট্র: ‘তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ আমি আজ চোর বটে’

তখন ভারতবর্ষ অলিখিতভাবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দখলে চলে গিয়েছে। মুঘলরা আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লির মসনদে। একটা জায়গীরের সমান জায়গা নিয়ে তাদের চলাচল। 

পতনের মুখে দাঁড়িয়ে মুঘল বাদশা আকবর শাহ (দ্বিতীয় আকবর) সিদ্ধান্ত নিলেন, উত্তরাধিকারী হবে মির্জা জাহাঙ্গীর। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্তারা আপত্তি জানাল। তারা সিদ্ধান্ত নিল সম্রাট হবে আবু জাফর। তাই করতে হলো। আকবর শাহের মৃত্যুর পর আবু জাফর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয়ে খেতাব নিলেন বাহাদুর শাহ জাফর। 

বাহাদুর শাহ জাফরের ২২ সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে বড় সন্তান দারা বখত মারা গেলে তিনি সবচেয়ে কনিষ্ঠ এবং জিনাত মহল বেগমের পুত্র জাওয়া বখতকে উত্তরাধিকার ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এবারো ইংরেজরা আপত্তি জানাল। তারা সাফ জানিয়ে দিল, মির্জা ফাখরু হবেন উত্তরাধিকার। তাকেই আমরা ওয়ারিস মেনে নেব। আর কেউ না। এই যে অন্য শাসকদের প্রতি ‘নাক গলানো’, খবরদারি করা তা আমাদের অঞ্চলে শুরু হয়েছিল তখনই।

ইংরেজদের এখন আর সেই রামও নেই আযাধ্যাও নেই। তাই বাইরের দেশগুলিতে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভ্যাস থামাতে হয়েছে। কিন্তু ইংরেজ, আইরিশ ও ইউরোপীয়দের হাতে গড়া আমেরিকা আধুনিক সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তি। অর্থে এবং পেশিতে। ফলে সেই স্বভাব তারা ছাড়তে পারেনি। যথার্থই লিখেছিলেন সৈয়দ মুজতবা আলী। কলম্বাসের আমেরিকা আবিস্কারই ছিল সর্বনাশ। উন্নয়নশীল বিশ্বের যেসব দেশ সভ্য হওয়ার চেষ্টা করছে, অগ্রসর হতে চেষ্টা করছে, তাদের মাথার ওপর দাবার ঘুঁটি বসিয়ে, কখনো সখনো আস্ত দাবার কোর্টটাকেই উলটিয়ে ফেলে নিজ উদ্দেশ্য-স্বার্থ চরিতার্থ করে চলেছে। তাদের অপকৌশল, ব্ল্যাকমেইলিং, শাসনে হস্তক্ষেপের বিস্তার ঘটেছে। শাসনব্যবস্থা বা শাসকই শুধু নয়, প্রশাসনের অভ্যন্তরে নাক গলানোও তাদের খবরদারির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

এমনকি বিনীয়োগ, আমদানি-রপ্তানি, ক্রয় বাণিজ্য বা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়েও তাদের নজরদারি ও খবরদারি উন্নয়নশীল বিশ্বের বহু দেশের জন্য প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠেছে। বিষয়টি সাধারণ মানুষ খুব উপলব্ধি না করলেও শাসনক্ষমতায় সংশ্লিষ্টরা হাড়ে হাড়ে টের পান।   

গত ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট তথা যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্পেশালি ডেসিগনেটেড ন্যাশনালস অ্যান্ড ব্লকড পারসনসের তালিকায় বাংলাদেশের সাবেক র‌্যাবের মহাপরিচালক ও বর্তমান পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সাতজন কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। 

ট্রেজারি বিভাগের এই নিষেধাজ্ঞায় ভিসা না দেওয়া, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত অর্থ-সম্পদ বাজেয়াপ্তসহ বেশ কিছু অবলিগেশনের সম্মুখীন হতে হয়। র‌্যাব ছাড়াও এই আদেশে বেশকিছু ব্যক্তির নামও রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এটি একটি নির্বাহী আদেশ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সময়ে করা এই নির্বাহী আদেশে বলা আছে, সেক্রেটারি অব স্টেট ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ট্রেজারি এই নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে। তারচেয়ে বড় কথা হলো, এই নিষেধাজ্ঞা আমাদের পুলিশের আইজিপিসহ কর্মকতারাই শুধু নয়, বাংলাদেশের সরকারও বিব্রত হয়েছে। 

ইতিমধ্যে এই নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে নাম প্রত্যাহারের আবেদনও জানানো হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে (সে অপশন আছে)।  যদিও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোন আলোচনায় এটা সুরাহার আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাব গঠনের প্রায় ১৭ বছর পর এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে  এ ধরনের অ্যাকশনে গেল, তাও আবার যে সময় র‌্যাবের কর্মকাণ্ড অনেকটাই দায়িত্বশীল হয়ে উঠেছে? এর পেছনে নিহিত কারণ অনেকগুলো। 

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে অনেকে যে ধারণা করছেন, তা অমূলক নয়। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ট্রেজারি বিভাগ নিষেধাজ্ঞার তালিকা তৈরিতে ডাটা নেওয়া হয়ে থাকে প্রধানত দাতা সংস্থা, এনজিও, সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই সকল প্রতিষ্ঠানে কর্ণধার হয়ে বসে আছেন যুক্তরাষ্ট্রেরই পোষ্যরা। 

সর্বক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত আচরণ, দ্বিমুখী নীতি-পদক্ষেপ একজন সচেতন মানুষকে হতাশ করে। র‌্যাব গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সন্ত্রাস দমনের উদ্দেশ্যে। ভলো কথা। সেই সময় খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন হয়েছিল এ অঞ্চলে সন্ত্রাস দমনের। ভারতের সঙ্গেও ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সময়ের চেয়ে অধিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে তখন বিশেষ করে জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে, আফগানিস্তানে ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যুদ্ধে নিয়োজিত ছিল। যে ইসলামি মৌলবাদ ও জঙ্গি সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান এবং কয়েকটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল বছরের পর বছর, সেই জঙ্গিগোষ্ঠিগুলোই সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এবং বিশেষ করে  ২০০১ সালে টুইন টাওয়ার হামলার মধ্য দিয়ে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে উঠেছিল। সে ইতিহাসে আর গেলাম না।  

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির জন্য বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ফলে প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল এই ছোট্ট ভুখণ্ডটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। মনে আছে র‌্যাব গঠনের সময়ের কথা? তখন বাংলাদেশে বিএনপি-জামাত জোট সরকারে। র‌্যাব গঠনের সময় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ছিলেন হ্যারি কে টমাস। ব্যক্তিগত জীবনে সজ্জন হলেও তাঁকে তাঁর সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী র‌্যাব গঠনে লবিং করতে হয়েছিল।  

বিশ্বব্যিাংক, এডিবি, আইএমএফের কান্ট্রি প্রধানরা রীতিমতো দৌড়ঝাঁপ করেছেন র‌্যাব গঠনের জন্য। অধিকন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই প্রশিক্ষণ দিয়েছিল বেশ কয়েকজন র‌্যাব কর্মকর্তাকে, কয়েকটি র‌্যাবের মামলায় সহায়তাও দিয়েছে তাদের গোয়েন্দা সংস্থা। আধুনিক অস্ত্রও দিয়েছে তারা র‌্যাবকে। র‌্যাব গঠনের পর জোট সরকারের সময়ে কিছু জঙ্গি যেমন নিহত হয়েছে, সেই সঙ্গে বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছাত্র  ও যুবনেতাও নিহত হয়েছে। তখন কিন্তু আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে হাততালি দিতে দেখেছি। তাহলে এই ১৭ বছর পর কেন, কী হলো?

সাধুবাদ তিনিই পেতে পারেন যিনি নিজে পরীক্ষিত সাধু। নিজের নেতিবাচক আত্মপরিচয় ভুলে গিয়ে অন্যকে সাধু হতে বলা কি গ্রহণযোগ্য? র‌্যাবের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং-এর। এই এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং কাক্সিক্ষত নয় সত্য, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কী করেছে? এফবিআই গড়ে তুলেছিলেন এডগার হুভারকে দিয়ে। ৩০-এর দশকে অর্থনৈতিক মন্দার ভেতর দিয়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়ে, তখন এডগার হুভারের বাহিনী বিচারবহিভর্‚ত হত্যাকাণ্ডই শুধু ঘটায়নি, সেইসঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নামে বলশেভিকদের তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়। সেই এডগার হুভারের নামে অত্যন্ত মর্যাদাসম্পন্ন ইনস্টিটিউট রয়েছে, তিনি এখনও যুক্তরাষ্ট্রে একজন সেলিব্রিটি হিসাবে বিবেচিত। 

কই, তার বিরুদ্ধে তো এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং এর আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ নেই! এখনো যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে মানুষের মৃত্যু হয় এবং তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ হয়; হয় না? নিয়মিত বিরতিতেই হচ্ছে। ২০১০ সালে প্রকাশিত ক্রিস্টোফার ক্যাব্রিস এবং ড্যানিয়েল সাইমনসের যৌথভাবে লেখা বই ‘ইনভিসিবল গেরিলা’র প্রথম কাহিনিটি পড়লে যে কোনো মানুষ জানতে পারবে আমেরিকার পুলিশিং কীভাবে চলছে। সংক্ষেপে বললাম। কেন এখন র‌্যাবকে পছন্দ হচ্ছে না তা খুব অস্পষ্ট নয়। আফগানিস্তান দখলের এবং ইরাককে ধ্বংসের পর যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশল আবার পরিবর্তন করে। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার জঙ্গি সংগঠনগুলোর পেছনে আবার রিমোট কন্ট্রোল হয়ে দাঁড়িয়েছে তারা। কয়েক শ’ বা কয়েক হাজার আল শাবাব, বোকো হারামের কত শক্তি যে আফ্রিকার বিশাল এলাকায় কয়েকটি দেশকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ছে? লক্ষ করলেই দেখা যাবে, আফ্রিকার তেল ও খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ দেশগুলি এবং ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলিতেই জঙ্গিরা তৎপর।

এ কথা অস্বীকারের কোনো উপায় নাই যে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং তা প্রধানত র‌্যাবের প্রচেষ্টায়। এখন জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিলে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়তে কার সুবিধা হয়, কী লাভ-ক্ষতি আছে তা গভীরভাবে ক্যালকুলেশনের দাবি রাখে। 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে তথাকথিত গণতন্ত্র সম্মেলনের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রেসিডেন্টের পরাজয়কে কেন্দ্র করে ক্যাপিটল হিল-এ যে হামলা হয়েছে তা দেখে সভ্য পৃথিবী বিস্মিত হয়ে গেছে। আজ বারাক ওবামা বা জিমি কার্টারের মতো প্রেসিডেন্টরাও যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র নিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠেছেন। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিসট্যান্স (আইআইডিইএ)-এর এক রিপোর্টে ‘ক্ষয়িষ্ণু গণতন্ত্র’র দেশগুলির তালিকায় উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাম। দেশটিতে কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মতপ্রকাশ তথা বাকস্বাধীনতা, ন্যায়বিচারপ্রাপ্তির অধিকার রক্ষায় চরমভাবে ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ আছে প্রতিবেদনে। সুতরাং অর্থ আছে বিধায়, শক্তি আছে বিধায় আপনার প্রেসক্রিপশন করা গণতন্ত্র সবাইকে গিলতে হবে কেন? আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র যে কাণ্ড করে গেল তা পৃথিবীর ইতিহাসের এক বিরল ঘটনা। 

যেই তালিবান, আল-কায়দার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে দেশটিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে ২০ বছর ধরে রাখলেন, সেই দেশটিকে আবার সেই তালিবানদের হাতে তুলে দিয়ে সোজা কেটে পড়লেন! অন্তত একটা রেফারেন্ডাম করে একটি গোষ্ঠীর হাতে দিয়ে যেতে পারতেন। কোনো কিছু না করে তালিবানদের মতো একটি কট্টর সংগঠনের হাতে ছেড়ে দিয়ে গেল! এ থেকেও বোঝা যায়, এ অঞ্চলে আবার জঙ্গিদের নার্সিং করার পরিকল্পনা তাদের পাক্কা। কীসের গণতন্ত্র আপনারা গেলাতে চান? আফ্রিকার একটি ছোট্ট দেশ আছে ইকোয়েটারিয়াল গিনি। দেশটি তেলের ওপর ভাসছে। 

৪২ বছর ধরে এই দেশটির ক্ষমতায় বসে আছেন থিওডোরো অবিয়াঙ গিইমা বাসোগো নামের এক অত্যাচারী শাসক। প্রেসিডেন্টশিয়াল নির্বাচনে তিনি নিজের একজন অনুগত লোককে তার বিরুদ্ধে দাঁড় করান। তারপর টেলিভিশন ও রেডিওতে সন্ধ্যায় ঘোষণা দেওয়া হয়, বাসোগো পেয়েছেন ৯৬ শতাংশ ভোট! এই শাসক মিশর থেকে ভাড়া করা মার্সেনারি নিয়ে চলাফেরা করেন। আশ্চর্য, যেসব প্রতিষ্ঠান দুনিয়ার দুর্নীতিবাজ খুঁজে বেড়ায়, অত্যাচারী শাসক খুঁজে বেড়ায় তারা কেউ তাঁকে দেখে না! কারণ,  তাঁর গুণ হলো, তিনি সব তেল আমেরিকাকে দিয়ে দেন! দেশের মানুষ থাকে না-খেয়ে! নিজের কোটি কোটি ডলার পশ্চিমা ব্যাংকে। 

কীসের ন্যায় বিচার যুক্তরাষ্ট্র শেখাবে? যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাংলাদেশেরসহ বিভিন্ন দেশের যুদ্ধাপরাধী, খুনী-অর্থ কেলেঙ্কারির লোক হাঁটে। অথচ জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে ফাঁসিয়ে কীভাবে বন্দী জীবন ‘উপহার’ দিয়েছে দেখলেন তো! 

মনে আছে এক সময় দেশে দেশে দেশপ্রেমিক নেতাদেরকে হত্যা করিয়ে পিনোশে’দের ক্ষমতায় আনত যুক্তরাষ্ট্র। আর্জেন্টিনা, ভেনিজুয়েলা, প্যারাগুয়ে, পানামা, গুয়েতেমালা, কোস্টারিকা কোথায় হাত দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র? কঙ্গো, চাদ, অ্যাঙ্গোলাসহ বেশ কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে কেবল নাকই গলায়নি, বরং হত্যা, ও বিনাশ নিশ্চিত করেছে। তবে সেই পরিবেশ এখন আর নেই কয়েকটি কারণে। প্রথমত, সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা ব্লক নেই, দ্বিতীয়ত, ইন্টারনেটের যুগ, সবাই সবকিছু বুঝে ফেলে, তৃতীয়ত, বিভিন্ন দেশ এখন অনেক সচেতন হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের ওই রকম হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি। 

এখন নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে রাশিয়া ও চীন এবং ভারতও। প্রেসিডেন্ট পুতিনের অধীন রাশিয়া কমিউনিস্ট না হয়েও ডি ফ্যাক্টো কমিউনিজমের পথে চলছে। তাই রাশিয়ার ঘরের কাছে জর্জিয়া, ইউক্রেইন, আজারবাইজান, লিথুয়ানিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ উত্তপ্ত করে রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের জন্য হংকং, তাইওয়ান, ফিলিপিনসকে উসকে দিচ্ছে, উত্তপ্ত রাখছে পরিবেশ। সেক্ষেত্রে ভারত বাদ যাবে কেন? যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব তো এক-দুই বছরের নয়। তাদের বহু পরিকল্পনা আছে ৫০ বা ১০০ বছরকে সামনে রেখে। ১০০ বছর পরের পৃথিবীও তাদের ক্যালকুলেটরে। সুতরাং ১৪০ কোটি মানুষের উদীয়মান ভারতের পিঠেও দু-একটি ফোড়া থাকা দরকার আছে!

যাহোক মূল কথায় ফিরে আসি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র চলছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। সে কথা প্রধানমন্ত্রী অতি সম্প্রতি একাধিকবার বলেছেন। সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশে এবং বিদেশে অবস্থানকারী কিছু বাংলাদেশি। যুক্তরাষ্ট্রও নেমেছে সেই ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে। তারই অংশ হলো র‌্যাবের কর্মকর্তা নিষিদ্ধ এবং সরকারকে গণতন্ত্রের সম্মেলনে নিমন্ত্রণ না জানানো। 

লেখক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক