২০২২ সালের প্রথম সপ্তাহে বড় ধরনের উত্থান দিয়ে পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন এক সপ্তাহেই সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে বড় উত্থান হয়েছে সবকয়টি মূল্যসূচকের। পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেন। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৩১ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ৪২ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা। অর্থাত্ গেল সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ১৫ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।
বড় অঙ্কের বাজার মূলধন বাড়ার পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তিন চতুর্থাংশের দাম বেড়েছে। সপ্তাহ জুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৮৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৬টির। আর ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২৩০ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৫৪ দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৮১ শতাংশ। তার আগে টানা দুই সপ্তাহ সূচকটি কমে। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ২৮২ পয়েন্ট কমে যায়।
প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি গেল সপ্তাহে বেড়েছে ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক। গত সপ্তাহ জুড়ে সূচকটি ৪১ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৭ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৫২ শতাংশ। বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও টানা দুই সপ্তাহ বেড়েছে। গেল সপ্তাহ জুড়ে এ সূচকটি বেড়েছে ৭০ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ২০ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট বা দশমিক ৮২ শতাংশ।
গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৯৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৮৩২ কোটি ১০ লাখ টাকা। অর্থাত্ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৪৬৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বা ৫৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আর গত সপ্তাহ জুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৬ হাজার ৪৮৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৪ হাজার ১৬০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন বেড়েছে ২ হাজার ৩২৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বা ৫৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। সপ্তাহ জুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৯৯ কোটি ৯১ লাখ ১৬ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। দ্বিতীয় স্হানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৪২ কোটি ৮৭ লাখ ১৮ হাজার টাকা। ২৭৪ কোটি ৭৯ লাখ ৪৬ হাজার টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্হানে রয়েছে ফরচুন সুজ। এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- পাওয়ার গ্রিড, ডেল্টা লাইফ ইনসিওরেন্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, অ্যাকটিভ ফাইন, ওয়ান ব্যাংক, লাভেলো আইসক্রিম এবং সাইফ পাওয়ার টেক।