জাবির গাছ যখন শিল্পীর ক্যানভাস

গাছের গায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সেই সঙ্গে আছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও। পাশেই সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার আবার আছেন কাল্পনিক অপ্সরাও। দৃষ্টিনন্দন এসব চিত্রকর্ম দেখে থমকে যাচ্ছেন পিচঢালা পথ ধরে হাঁটতে থাকা পথচারী। মনোমুগ্ধকর এসব চিত্রকর্মের সঙ্গে স্মৃতি রাখতে ক্যামেরার হাতেও দাড়িয়ে যাচ্ছেন তারা। বন্দি করে ফেলছেন মূহুর্তগুলো। বলছিলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছের গায়ে আঁকা মনোমুগ্ধকর চিত্রকর্মের কথা। গাছের গায়ে রঙতুলির আঁচড়ে বিখ্যাতজন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক রক্ষক ও কাল্পনিক পরীকে জীবন্ত করে তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন সড়কের পাশে দুইটি গাছকে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে। গাছ দুটির দিকে তাকাতেই মনে হবে, একটি থেকে বেরিয়ে আসছে জীবন্ত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, অন্যটি থেকে উড়তে উড়তে বেরিয়ে আসছে কাল্পনিক অপ্সরা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের পাশের গাছে আঁকা হয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দৃষ্টিনন্দন চিত্রকর্ম। সর্বশেষ মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনের একটি গাছে আঁকা হয়েছে সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামার উপর কালো কোট পরিহিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাহারি চিত্রকর্ম।

জানা যায়, গাছগুলোতে রঙতুলির আঁচড়ে ভিন্নরূপ দেওয়ার এ উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তরুণ চিত্রশিল্পী সোহাগ কুমার মিশ্র’র। তিনি ব্যক্তি উদ্যোগে ভিন্নধর্মী এমন কাজ শুরু করেছেন। নিজের পকেটের টাকা দিয়ে রঙ কিনে গাছগুলো রাঙাতে শুরু করেছেন সোহাগ। ইতোমধ্যে চারটি গাছে বৈচিত্রময় চিত্রকর্মের জন্য প্রশংসা কুড়চ্ছেন তিনি। ফলে আগামীতে আরও কয়েকটি গাছের গায়ে মাদার তেরেসাসহ বিখ্যাতজনদের ছবি আঁকার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন সোহাগ।

ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগের বিষয়ে সোহাগ কুমার মিশ্র ইত্তেফাককে বলেন, সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসের সবুজ গাছগুলোতে ভিন্ন কিছু করতে পারলে সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। এমন ভাবনা থেকে ক্যাম্পাসের সবুজ গাছগুলোতে নতুন কিছু করার আগ্রহ ছিল। সেখান থেকে ভেবেছিলাম, গাছগুলোতে কোন বিশেষ কিছু ছবি আঁকতে পারলে প্রকৃতি আর শিল্পের মেলবন্ধনে দারুণ কিছু হবে। পরে আগ্রহ অনুযায়ী গাছের গায়ে চিত্রকর্মগুলো অঙ্কন করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমি পুরো ক্যাম্পাসটাকে গ্যালারি হিসেবে দেখি। যেখানে গাছগুলোই আমার ক্যানভাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছগুলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। আমার চিত্রকর্ম দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিংবা দর্শনার্থী, সবাই প্রশংসা করছেন। কেউ কেউ আবার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মুগ্ধতা জানাচ্ছেন। এসব মুহূর্ত একজন চিত্রশিল্পের জন্য সবচেয়ে আনন্দের। পরবর্তীতে এমন কাজ আরও করার ইচ্ছা আছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসটিকে রঙতুলির ছোঁয়ায় রঙিন করতে চাই।