‌‘বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বিজয়ের পূর্ণতা লাভ করেছে’

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষণার পরপরই, বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী গ্রেফতার করে। তাঁর অদম্য নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। পরাজিত পাকিস্তানি শাসকরা অবশেষে বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ১০ জানুয়ারি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যে বাংলার বিজয়ের পূর্ণতা লাভ করে।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ছবি- ফোকাস বাংলা

সোমবার (১০ জানুয়ারি) সকালে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা ও সখিপুর থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণ করে উন্নয়নের বীজ বপন করেন। তার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ তার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’, একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল দেশ অর্জনের পথ হিসেবে একটি স্বনির্ভর অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জন করতে শুরু করে। একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ দেশের সূচনা ঘটে তখন। বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছরে পুনর্বাসন ও জাতি পুনর্গঠনের কঠিন কাজ সম্পন্ন করেন। এত অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অনেক দেশের স্বীকৃতি, বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘসহ বিশ্বের সব বড় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ লাভ করতে সক্ষম হয়। তিনি একটি আধুনিক সংবিধান গ্রহণ করেন। ঐতিহাসিক জলবণ্টন চুক্তি, ভূমি সীমানা নির্ধারণ এবং ভারতের সঙ্গে শান্তি চুক্তিসহ প্রতিবেশীদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে সক্ষম হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের স্কুল ও কলেজ পুনর্নির্মাণ করেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৪ সালে জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৫%-এরও বেশি অর্জনে সফল হয় বঙ্গবন্ধুর সরকার। 

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ছবি- ফোকাস বাংলা

এনামুল হক শামীম বলেন, বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে নিরলসভাবে কাজ করে চলছেন তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন বাবা শেখ মুজিবকে জড়িয়ে ধরে কন্যা শেখ রেহানা। ছবি- সংগৃহীত

এসময় ভেদরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও সখিপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির মোল্যা, নড়িয়া উপজেলার সহ-সভাপতি বাদশা শেখ, সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান খোকন, সখিপুর থানার সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মানিক সরকার প্রমুখ। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।