রাতের আঁধারে কাটা হচ্ছে পাহাড়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় একের পর এক পাহাড় কেটে সাবাড় করছে প্রভাবশালী মহল। প্রশাসনের নজর এড়াতে সন্ধ্যার পর তারা পাহাড় কাটা শুরু করে। যা চলে ভোর পর্যন্ত। আর এসব পাহাড়ের মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জমি ভরাট, বাড়ি নির্মাণ, সড়ক সংস্কার এবং ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য। মাঝেমধ্যে প্রশাসন অভিযান চালালেও বন্ধ হচ্ছে না পাহাড় কাটা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ সচেতনরা। তারা বলছেন, পাহাড় কাটায় হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। মাটি হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক স্থায়িত্ব।

জানা যায়, গত কিছুদিন যাবৎ উপজেলার গোপিনাথপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে পাহাড় কেটে সে মাটি দিয়ে নিচু জমি ও জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে। স্থানীয়রা বিষয়টি জানাতে গত শনিবার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নুরুল আমিনকে ফোন দিলেও সেদিন তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে এদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ত্রিপল নাইনে (৯৯৯) ফোন দিলে সেখান থেকে জরুরি মেসেজ পেয়ে কসবা থানা পুলিশ রাত ১১টায় ঘটনাস্থলে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা ঘটনাস্থলের একটি টিলার আড়ালে মাটি কাটায় ব্যবহূত ভেকু লুকিয়ে রাখে। অপরদিকে আটটি ট্রাক্টর বিভিন্নস্থানে লুকিয়ে রেখে চালকরা পালিয়ে যান। পরদিন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পরিদর্শক জুবায়ের হোসেন। ঐ দিন রাতে আবার পুলিশ আসলে এদিনও পালিয়ে যায় জড়িতরা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কসবা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মুন্সি রুহুল আমিন টিটু বলেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় পাহাড় কেটে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করা হচ্ছে। বিরানভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে পাহাড়। প্রশাসনের উদাসীনতাই এজন্য দায়ী। কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আলমগীর ভুঁইয়া জানান, ত্রিপল নাইনের (৯৯৯) নির্দেশনা পেয়ে দুই রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাটি কাটায় জড়িতরা পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জিব সরকার বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু আমরা এ ব্যাপারে কোনো অনুমতি দেইনি। ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ উল আলম বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি।