অর্ধেক যাত্রীর নামে নৈরাজ্য নয়

নতুন বছরের শুরুতেই করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট চোখ রাঙাতে শুরু করেছে। গত কয়েক দিন ধরে আবারো দেশে করোনায় দৈনিক সংক্রমণ বাড়ছে। এর ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে আবারো গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী বহন, মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, রাত আটটার পরে দোকানপাট বন্ধসহ বেশ কিছু নির্দেশনা এসেছে। ট্রেনে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নেওয়ার বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু বিগত সময় লক্ষ্য করা গেছে, অর্ধেক যাত্রী নিয়ে সবধরনের লঞ্চ, গণপরিবহন চলার কথা থাকলেও পরিবহন শ্রমিকরা প্রতিটি আসনে যাত্রী তুলে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেছে। এমনও দেখা গেছে, বাড়তি ভাড়ার পাশাপাশি আসন ছাড়াও তারা অতিরিক্ত যাত্রী তুলেছে। এতে করে দেশে হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। যেটা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না।

নীতিনির্ধারকরা সব ধরনের নিয়মনীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। তাই আবারো এই পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের বিশৃঙ্খলা যাতে না হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। এদিকে কিছুদিন আগেই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের সব গণপরিবহন, লঞ্চ এবং ডিজেল চালিত অনন্য যানবাহনের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে মালিক সমিতি। এতে প্রায় জায়গায় যাত্রীদের সঙ্গে গাড়ি শ্রমিকদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। বেশির ভাগ জায়গায় তারা তাদের মনমতো ভাড়া আদায় করে চলেছে। রাজধানীর মধ্যে চলমান সব গণপরিবহনে ভাড়ার তালিকা করে দেওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া নিতে না পারলেও দেশের অনন্য জায়গায় তারা খেয়ালখুশি মতো ভাড়া দাবি করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে চলেছে। এর ওপর যদি সিট সংখ্যা অর্ধেক করায় বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায়, তাহলে সব থেকে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হবে ছাত্রছাত্রী এবং নিম্ন আয়ের মানুষদের। সাধারণ মানুষ আবারও পড়বে জটিলতায়। খুঁজে পাওয়া যাবে না এর কোনো সমাধান। একদিকে সাধারণ যাত্রী অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিক উভয়ের মধ্যেই সৃষ্টি হবে চরম বিশৃঙ্খলা। এজন্য অবশ্যই এ বিষয়ে স্থায়ী সমাধান এনে তার পর চালু করতে হবে এমন পদক্ষেপ।

গত বছর লকডাউনের বিধিনিষেধ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ১১ আগস্ট থেকে স্বাস্হ্যবিধি মানার ওপর জোর দিয়ে সব আসনে যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন সড়কে নামানোর বিষয়ে। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সড়কে আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালুর দাবি জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। আর দাবি করাটাও তাদের স্বাভাবিক ছিল। কেননা অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালানোর কথা থাকলেও তারা প্রতিটি আসনে যাত্রী তুলে বাড়তি ভাড়া আদায় করেছে। কিছুদিন আগেও আমরা দেখেছি রাজধানীতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে কথা কাটাকাটি করায় এক স্কুল শিক্ষককে গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। যেটা শুধু এই বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়কে কেন্দ্র করে। তাই শুধু ঘোষণা দিয়েই সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলা যাবে না। নীতিনির্ধারণী মহল থেকে সব ধরনের নিয়মনীতির ঘোষণা মাঠে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা গত বছর দেখেছি, প্রশাসন থেকে বারবার নিয়ম লঙ্ঘনকারী বাস অপারেটর ও মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হলেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ কারো বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি। তাই দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রীর বিষয়ে আইনের পদক্ষেপ যাতে বাস্তবায়ন হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, সরকারি বিএল কলেজ, খুলনা