চলতি সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস গতকাল বুধবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। সূচক ও লেনদেন কমার পাশাপাশি দুই বাজারেই লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। তবে এই পতনের বাজারেও চার কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে। এর আগে নতুন বছরের প্রথম পাঁচ কার্যদিবস শেয়ারবাজার টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকে। এতে বছরের প্রথম সপ্তাহেই প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ২৩০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। আর বাজার মূলধন বাড়ে ১৫ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।
গতকাল দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৩ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ৯৯৬ পয়েন্টে নেমে গেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৬০৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গতকাল দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৬৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ১ হাজার ৯৭৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৩১২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। গতকাল ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪৩টির। আর ৪৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমলেও চারটি কোম্পানির শেয়ার দিনের দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে। এই চার কোম্পানির মধ্যে রয়েছে লাভেলো আইসক্রিম, তাল্লু স্পিনিং মিলস, আরএকে সিরামিক ও রংপুর ফাউন্ড্রি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার দিনের সর্বোচ্চ দামে লেনদেন হলেও একপর্যায়ে বিক্রয় আদেশের ঘর শূন্য হয়ে পড়ে। অর্থাত্, যাদের কাছে কোম্পানিগুলোর শেয়ার আছে, তারা বিক্রি করতে চাইছিলেন না।
গতকাল ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ফরচুন সুজের শেয়ার। কোম্পানিটির ১০১ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকোর ৯৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৯৬ কোটি ৪৪ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—পাওয়ার গ্রিড, আরএকে সিরামিকস, তিতাস গ্যাস, রবি, ফারইস্ট ইসলামি লাইফ ইনসিওরেন্স, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লস ও বসুন্ধরা পেপার।
গতকাল অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৬৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৯৪টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।