ক্যানভাসে জীবন ও জগতের অন্বেষণ 

ব্যক্তি মানুষের জীবনের গতি প্রকৃতি কি বিশ্বের গতিপ্রকৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয়? শিল্পী সুবর্ণা মোর্শেদার চিত্রকর্ম যেন সেই প্রভাবের চিত্রই তুলে ধরে শিল্পরসিকদের সামনে। গতকাল শিল্পী সুবর্ণা মোর্শেদার তৃতীয় একক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী ‘অন্বেষণ’ শুরু হয়েছে রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে। 

যেখানে শিল্পীর গত দুই বছরের শিল্প ভ্রমণ বর্তমান বিশ্বের করোনাকালের সামগ্রিক জনজীবনের গতিপ্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। শিল্পী ব্যক্তি জীবনের মানসিক অবস্থা তুলে এনেছেন তার সাম্প্রতিক চিত্রকর্মে। দেখা যাচ্ছে, এই করোনাকালে বিশ্বের সার্বিক পরিস্থিতিও এর বাইরে নয়। ২০১৯ সালে ক্যানভাসে যখন শিল্পীর উদ্ভাসিত উপস্থিতি এরপর তা যেন অন্ধকারে নিমজ্জিত। ধীরে ধীরে অন্ধকার থেকে আবারও আলোর পথে ভ্রমণ করতে দেখা যায় শিল্পীকে।

প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যায়ের চারুকলা অনুষদ-এর অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগের অধ্যাপক জামাল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাপচিত্র বিভাগের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, ইএমকে সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আসিফ উদ্দিন আহমেদ এবং মনোস্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র ‘মনের বন্ধু’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদা শিরোপা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শিল্পী সুবর্ণা মোর্শেদা। প্রদর্শনীটির কিউরেট করেছেন দৃকের মহাব্যবস্থাপক আলোকচিত্রী রেজাউর রহমান। 

ছবি: ইত্তেফাক

শিল্পী সুবর্ণা মোর্শেদা বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি একটা খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। ক্যানভাসে তারই প্রতিফলন উঠে এসেছে। করোনাকালের জন্য বিশ্বের আর সব মানুষের মতো আমিও ঘরবন্দি, একাকী জীবন কাটিয়েছি। সেই সময়ের মানসিক অবস্থাই উঠে এসেছে আমার ক্যানভাসে।কিউরেটর রেজাউর রহমান বলেন, ব্যক্তি মানুষের ভাবনাই তার ক্যানভাসে সামগ্রিক রূপ পেয়েছে। গত দুই বছর সারা বিশ্বের মানুষের জীবনের গতি-প্রকৃতিই প্রতিফলিত হয়েছে শিল্পীর ক্যানভাসে।

প্রদর্শনীতে ৩৪টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে মেলানকোলি, যাপিত জীবন, যপিত জীবনের দিনপঞ্জি বিভিন্ন সিরিজের ছবি স্থান পেয়েছে। লিথোগ্রাফ, পেন্সিল স্কেচ, সায়নোটাইপ, জলরং প্রভৃতি মাধ্যমে কাজ করেছেন শিল্পী। প্রদর্শনী চলবে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। শনিবার শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ।