সিএসআর ব্যয় হোক টেকসই কাজে

 

টেকসই উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) বর্তমান বিশ্বে ব্যবসায়াকি ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটা এক ধরনের ব্যবসায়িক শিষ্টাচার বা রীতি। যা সমাজের প্রতি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনকে ব্যবসার নিয়মের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত কার্যক্রমের ফলে উদ্ভূত নানারকম পরিবেশগত বিরুপ প্রভাব পড়ে। এসব প্রভাব দূরীকরণের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে বিদ্যমান ক্ষোভ, অসমতা ও দারিদ্র্য কমানো সিএসআরের মূল উদ্দেশ্য। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কর-পরবর্তী নিট আয় থেকে সিএসআরের অর্থ ব্যয় করে। এর বাইরে অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও এখন সিএসআরে বড় অংশ ব্যয় করছে।

অন্যান্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায় বেশি। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠান মানুষের অর্থে থাকে বেশি। তাই তাদের জবাবদিহিতাও অন্যদের চেয়ে বেশি। একথা বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সিএসআরের অর্থ কোথায় ব্যয় করবে তারও একটি নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোকে তাদের সিএসআর খাতের মোট ব্যয়ের ৩০ শতাংশ শিক্ষা খাতে, ২০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে এবং ১০ শতাংশ জলবায়ু ঝুঁকি বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে দেশে কার্যরত ব্যাংকগুলো প্রায় ৯০৫ কোটি টাকা সিএসআরে ব্যয় করেছে। ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরো চার কোটি টাকা ব্যয় করেছে। হিসেবে দেখা গেছে, এসব অর্থের বেশিরভাগই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যয় হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বেশি ব্যয় বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান প্রদান, শীতবস্ত্র প্রদান এবং পদ্মা নদী ভাঙনের ফলে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদানে ব্যয়িত  সিএসআর ব্যয় এ খাতে দেখানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী ব্যাংকগুলো ৮টি খাতে সিএসআরের অর্থ ব্যয় করতে পারে। এসব খাত হলো— শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ, সাংস্কৃতিক কল্যাণ, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অধিকার বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য আয় বর্ধক কর্মসূচি এবং অন্যান্য খাত।

সিএসআরের অর্থ যে ধরনের কাজে ব্যয় হয় এ ধরনের কাজে ব্যয় করার জন্য আমাদের দেশে উত্স কম। ব্যাংকগুলোই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। তাই ব্যাংকের ব্যয় করা এসব সিএসআরের ব্যয় যেন দরিদ্র ও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ব্যয় হয় সে বিষয়টা খেয়াল রাখতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আয়বর্ধিতকরণ খাতে ব্যাংক করলে সেগুলোর দীর্ঘমেয়াদে থাকে। ফলে সেটি টেকসই হিসাবে গণ্য হয়। এজন্য ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত হবে সিএসআরের এসব অর্থ যেন টেকসইমূলক কাজে ব্যয় হয়।