আমাদের দেশে সব্জি হিসেবে ওলকচুর বেশ কদর রয়েছে। ওলকচু সাধারণত মাছ এবং মাংস দিয়ে রান্না করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে ওলকচুর চাষ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় দেশের সাতক্ষীরা, যশোর, কুমিল্লা, চুয়াডাঙ্গা, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে ওলকচুর চাষ করা হয়। প্রাক আর্য ভাষা: ‘ওল্ল’ থেকে এসেছে ওল। ওল বাংলাদেশের একটি অন্যতম অর্থকরী কচুজাতীয় সব্জি। ওলের বেশ চাহিদা থাকায় বর্তমানে দেশে উন্নতমানের মাদ্রাজী জাতীয় ওলের চাষ করা হচ্ছে।
দেশের অনেক চাষি বাণিজ্যিকভিত্তিতে ওল চাষে এগিয়ে এসেছে। ওল চাষ বেশ লাভজনক। দশ থেকে বারো গুন লাভ আসে ওল চাষ করে। ওল চাষ বেশ সহজ। তেমন বেশি শ্রম দিতে হয় না। বীজ বপনের পাঁচ মাসের মধ্যে ফল আসে। অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় ওলের চাষ করতে হয়। ওলের ক্ষেতে পানি যেন জমতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ওলের ক্ষেতে পানি জমে থাকলে ওল পচে যায়। ওলের বীজ বপনের আগে জমিতে চার পাঁচবার চাষ দিয়ে গোবর সার প্রয়োগ করে বীজ বপন করতে হয়। বীজ বপনের সময় বীজের আকার যেনো ছোট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চি গভীরে এবং দুই হাত অন্তর বীজ বপন করতে হয়। প্রতিবিঘা জমিতে ১৬শ’ কেজি বীজ লাগে।
ফাল্গুন-চৈত্রমাসে বীজ বপন করতে হয়। পাঁচ মাসে ফসল উত্পাদন হয়। শ্রাবণ মাসের দিকে ফসল তোলা যায়। প্রতিটি ওলগাছে ছয় থেকে আট কেজি ওল উত্পন্ন হয়। প্রতিবিঘা জমিতে প্রায় সাড়ে নয় হাজার কেজি ওল উত্পন্ন হয়। প্রতিবিঘা জমিতে ওলচাষ করতে ২০ হাজার টাকার মত খরচ হয়। পাঁচ মাসে ওল চাষ করে কৃষক লাভ করে প্রায় একলাখ চল্লিশ হাজার টাকার মত। বাজারে পাইকারী হিসেবে প্রতিমণ ওল বিক্রি হয় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। ওলচাষে কৃষকদেরকে তেমন ঝুঁকি নিতে হয় না। সামান্য পরিচর্যা করলে চলে। ওলের ক্ষেত্রে পোকামাকড়ের আক্রমণ নেই বললেই চলে। ওল চাষ বাণিজ্যিকভাবে বেশ লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক এ ব্যাপারে এগিয়ে আসছেন। ওল দেশের চাহিদা মিটিয়ে সব্জি হিসেবে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে সব্জি হিসেবে ওলের বেশ চাহিদা রয়েছে।