আগারগাঁওয়ে যখন বাণিজ্য মেলা হতো, সেখানকার বড় বড় কোম্পানির ফার্নিচারের প্যাভিলিয়নগুলো ছিল দেখার মতো। বেশির ভাগই ছিল ডুপ্লেক্স। এত সুন্দর গোছানো ছিমছাম যে, দর্শনার্থীরা আগ্রহ নিয়ে ঘুরে ঘুরে সব ফার্নিচার দেখত। এবার প্রথম বারের মতো পূর্বাচলের স্থায়ী কমপ্লেক্সে বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। কমপ্লেক্সের মূল ভবনের ভেতরেই ফার্নিচারের স্টল দেওয়া হয়েছে। জায়গা কম থাকায় প্যাভিলিয়ন নয়, বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্টল। তাও আকারে খুব বড় নয়। ফলে মেলার শুরু থেকেই অনেকটা হতাশ ব্যবসায়ীরা। এজন্য তারা স্টলে কয়েকটি ফার্নিচার রেখে বাকিগুলো ভাচুর্য়ালি প্রদর্শন করছেন। ক্রেতা-দর্শনার্থীরাও আগ্রহ নিয়ে তা দেখছেন।
গতকাল রবিবার বাণিজ্য মেলায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে ফার্নিচারের স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছেন। কেউ-বা ফার্নিচারের ক্যাটালগ সংগ্রহ করছেন। কেউ কোনো ফার্নিচার পছন্দ হলে মেলা উপলক্ষ্যে কত ছাড় (ডিসকাউন্ট) দেওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করছেন। ছাড়ের বিষয়ে সন্তুষ্ট হলে অর্ডার দিচ্ছেন। পরিবহন খরচ ও ঝামেলা এড়াতে কেউ কেউ তার বাসার আশপাশে শোরুমের ঠিকানা নিয়ে নিচ্ছেন।
স্টলের বিক্রয়কর্মীরা জানিয়েছেন, মেলায় এখন দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে ফার্নিচার দেখছেন, কিনছেন কম। তবে শেষের দিকে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন। মেলায় ফার্নিচারের স্টলগুলোতে এবার খাট, সোফা, আলমিরা, ড্রেসিং টেবিল, ডাইনিং টেবিল, ওয়ারড্রব, কর্নার শোকেজ, রকিং চেয়ার, টেবিল ল্যাম্পসহ বিভিন্ন ধরনের ফার্নিচার বিক্রি করা হচ্ছে। এসব ফার্নিচারের মধ্যে খাট ৩০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা ও সোফাসেট ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্পেশাল সোফার দাম আরো বেশি।
আখতার ফার্নিচারের বিক্রয়কর্মী জামাল উদ্দিন বলেন, বাণিজ্য মেলায় সোফা ও খাটের চাহিদা বেশি। হাতিল ফার্নিচারের সহকারী ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, এবার মেলায় ফার্নিচার স্টলের মালিকরা স্পেস কম পেয়েছে। সে কারণে হাতেগোনা কয়েক রকমের ফার্নিচার দিয়ে স্টল সাজানো হয়েছে। তবে এ সমস্যা সমাধানে আমরা ভাচুর্য়ালি ফার্নিচার দেখাচ্ছি। ক্রেতারা অর্ডার করছেন। তাতে সাড়াও পাচ্ছি বেশ। অর্ডার নেওয়া ফার্নিচার শোরুম থেকে সরবরাহ করা হবে বলে জানান তিনি।
পারটেক্স ফার্নিচারের বিক্রয়কর্মী এ এফ এম ফয়সাল বলেন, মেলায় ফার্নিচারের স্টলগুলোকে ৪০০ বর্গফুট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাতে সব ধরনের ফার্নিচার ডিসপ্লে করা যাচ্ছে না। কমপক্ষে ৮০০ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন।
রিগ্যাল ফার্নিচারের বিক্রয়কর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, মেলার প্রথমদিকে ফার্নিচার আইটেম অনেকেই দেখতে আসেন। তবে মেলার শেষের দিকে ফার্নিচার বিক্রি হয় বেশি। সে আশায় আছি। আলীবাবা ডোরের সহকারী ব্যবস্থাপক ফকরুল ইসলাম রাজ বলেন, মেলায় আশপাশের স্থানীয় ক্রেতা ও দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি। বেশি দামের ফার্নিচারের চাহিদা এখানে কম। তবে কমদামি ফার্নিচারের চাহিদা বেশি। নাদিয়া ফার্নিচারের বিক্রয়কর্মী দীপু শাহ্ বলেন, ফার্নিচারের দোকানগুলোতে দর্শনার্থীর পরিমাণ বেশি।
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে মেলায় আসা ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম বলেন, মেলায় বিভিন্ন ডিজাইনের ফার্নিচার প্রদর্শন করা হয়। এখন ঘুরে ঘুরে দেখছি, তবে মেলা থেকে ফার্নিচার কেনার ইচ্ছে রয়েছে।