আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক সম্মেলন বা ডিসি সম্মেলন। চলবে আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। সম্মেলন শেষ হবে বৃহস্পতিবার।
সাধারণত নিজ কার্যালয়ে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এবার করোনাভাইরাসের কারণে অধিবেশনে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন তিনি। অধিবেশন চলাকালীন সময়ে একই মাধ্যমে যুক্ত হবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। প্রথমদিন দিন সন্ধ্যা ৬টায় ভার্চুয়ালি দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন রাষ্ট্রপতি। দ্বিতীয় দিন বিকাল সোয়া ৪টায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে স্পিকার শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন। সন্ধ্যা ৬টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন প্রধান বিচারপতি।
তিন দিনের সম্মেলনের কর্মসূচি অনুযায়ী, এবার সম্মেলনে ২১টি কার্য অধিবেশনসহ মোট ২৫টি অধিবেশন থাকবে। এর মধ্যে প্রথম দিন সাত, দ্বিতীয় দিন আট এবং তৃতীয় দিন ১০টি অধিবেশন থাকবে।
প্রথম দিন
১৮ জানুয়ারি উদ্বোধনের পর সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হবে প্রথম অধিবেশন; যাতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ, অর্থ বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মতবিনিময় হবে। একইদিনের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হবে দুপুর সাড়ে ১২ টায়। অধিবেশনটি হবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওতাধীন সংস্থাগুলোর সঙ্গে। পরে একে একে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, সংস্কৃতি বিষয়ক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অধিবেশন হবে। আর সবশেষে থাকবে রাষ্ট্রপতির দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য।
দ্বিতীয় দিন
১৯ জানুয়ারি দ্বিতীয় দিন প্রথম অধিবেশন শুরু হবে সকাল ৯টায়। অধিবেশনটি হবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। পরে একে একে কৃষি, খাদ্য, বস্ত্র ও পাট, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, শ্রম ও কর্মসংস্থান, শিল্প ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হবে।
তৃতীয় দিন
২০ জানুয়ারি প্রথম অধিবেশন শুরু হবে পৌনে ৯টায়। অধিবেশনটি হবে প্রতিরক্ষা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সঙ্গে। দ্বিতীয় অধিবেশন হবে পানি সম্পদ, নৌপরিবহন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। পরে তথ্য ও সম্প্রচার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ভূমি ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ, রেলপথ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময় হবে।
সোমবার (১৭ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। কোভিড-১৯-এর নতুন ঢেউয়ের কারণে এই সম্মেলন ইতিমধ্যেই পাঁচদিন থেকে কমিয়ে তিনদিন করা হয়েছে এবং তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভা কক্ষের পরিবর্তে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাত্র ১৫টি মন্ত্রণালয়ের ১৫ জন মন্ত্রী ও সচিবকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়াও, সম্মেলনে যোগদানের আগে ডিসিদের স্ব-স্ব গানম্যান, ড্রাইভার এবং সঙ্গীদের সঙ্গে আরটিপিআর পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান যে, এখন পর্যন্ত দুই বিভাগীয় কমিশনার এবং পাঁচজন ডিসি কোভিড -১৯ পজিটিভ হয়েছেন। তারা হলেন, রাজশাহী ও বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার এবং কক্সবাজার, রাজশাহী, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চুয়াডাঙ্গার ডিসি।
করোনাভাইরাসের নতুন ঢেউয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, কোভিড -১৯ বিবেচনা করে সম্মেলন স্থলটি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্থানান্তরিত করেছেন আয়োজকরা। সেখানে ৭০০ জনের ধারণক্ষমতা থাকলেও মাত্র ৬৪ জন লোককে অনুষ্ঠানস্থলে যেতে দেওয়া হবে। এই সম্মেলনে অনেক মন্ত্রণালয়কে বিভিন্নভাবে স্থান দেওয়া হয়েছে।
কোভিড-১৯, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইন প্রয়োগ, স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় পর্যায়ে দারিদ্র্য হ্রাস ও কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম, আইসিটি ও ই-গভর্নেন্স, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, ভৌত অবকাঠামো এবং সম্মেলনে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।