ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় কোন স্টলে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি ভিড়? কসমেটিকস, ফার্নিচার, তৈজসপত্র, টিভি-ফ্রিজ নাকি খাবার স্টল? এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য খুব বেশি হিসাব-নিকাশের প্রয়োজন আছে কি? কারণ, প্রয়োজন ভেদে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আলাদা আলাদা পণ্যের স্টল পছন্দ হলেও একটি জায়গায় মিল রয়েছে সবার। আর তাহলো খাবারের বিষয়ে। সবাই ভিন্ন ভিন্ন পণ্যের স্টলে গেলেও ঘোরাঘুরি শেষে পেট পুজো করতে সবাই ছুটছেন। আর তাতেই ভিড় লেগেই থাকছে খাবারের স্টলগুলোতে।
গতকাল খাবারের স্টলগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। মেলায় সময় যত গড়ায় এই ভিড় ততই বাড়তে থাকে। আর সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টায় মেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত খাবার স্টলগুলো রীতিমতো জমজমাট হয়ে ওঠে। অনেক স্টলে বসার জায়গা পাওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কেউ কেউ তো বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে সেরে নেন খাওয়ার কাজ। অবস্থাটা এমন যে শুধু খাবার খেতেই যেন তারা মেলায় এসেছেন। খাবারের স্টলগুলোতে কী ধরনের খাবার পাওয়া যাচ্ছে? স্টলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, খাবার মেনু্যতে চিকেন বিরিয়ানি, মাটন কাচ্চি, বিফ কাচ্চি, ফ্রাইড চিকেন, চিকেন শাসলিক, চিকেন চাপ, চিকেন গ্রিল, বটি কাবাব, ফালুদা, জুস, কফি, ভাত, মাছ, ডাল, সবজি, মাংস, লাচ্ছি, নুডলস, পানীয়, মাটন হালিম, ফুসকা, চটপটি, পরটা, কাবাব, খিচুড়ি থেকে শুরু করে থাইসু্যপও রয়েছে। তবে লুচি আর চিকেন চাপের চাহিদা বেশি। অনেকেই মাটির পাত্রে স্পেশাল চা খেতে ভিড় জমান।
মেলায় মি.বাইট রেস্টুরেন্টের মালিক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ খোকন জানান, মেলায় ঘুরাঘুরি আর ছবি তোলার সঙ্গে খাওয়া যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। সে কারণেই বাণিজ্য মেলায় খাবার স্টলে ক্রেতাদের ভিড়। তিনি বলেন, অন্যান্য খাবারের চাহিদা থাকলেও পরিবেশসম্মত দেশীয় খাবারের চাহিদাই বেশি। ‘জান্নাত তেহেরি’র স্বত্বাধিকারী সাগর মিয়া বলেন, দুপুর ও রাতের খাবার হিসেবে মেলার দর্শনার্থীরা তার দোকানে তেহারি খেতে ভিড় করেন। পূর্বাচল রয়েল ফুডের স্বত্বাধিকারী আলহাজ মোতাহার হোসেন নাঈম বলেন, দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় চিকেন চাপ ও লুচি-রুটির চাহিদা বেশি। টেস্টি ট্রিটের বিক্রয়কর্মী শরীফ ভুঁইয়া বলেন, আইসক্রিম ও ফাস্টফুড জাতীয় খাবার শিশুদের আকৃষ্ট করছে বেশি।
ভোক্তার চাহিদার কথা বিবেচনা করেই মেলায় বিভিন্ন ধরনের খাবার বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন পরিচালিত হোটেল অবকাশের উপ-ব্যবস্থাপক খান মো. ফয়জুল করিম। তিনি বলেন, নির্ধারিত খাদ্য তালিকা অনুযায়ী তাদের খাবার বিক্রি করা হচ্ছে। ব্যাংকারস্ ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের বিক্রয়কর্মী ইমন মিয়া বলেন, শহরের তরুণদের পছন্দ ফাস্টফুড। তাই তাদের পছন্দের কথা বিবেচনা করে ফাস্টফুড বিক্রি করা হচ্ছে। বিশেষ ছাড় থাকায় বিক্রি ভালোই হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে মেলায় খাবারের মান, প্যাকেটজাত খাবার মেয়াদোত্তীর্ণ কি না, মূল্য তালিকা প্রদর্শন হচ্ছে কি না—এসব বিষয় তদারকি করছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মেলায় উদ্বোধনের পর এ পর্যন্ত ছয়টি খাবার স্টলকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।