গত সপ্তাহে টেক্সাসের সিনাগগ জিম্মি পরিস্থিতির পর আবারও সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ইহুদিদের উপাসনালয় সিনাগগে যে ব্যক্তি চারজনকে জিম্মি করেছিলেন সে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে বন্দি পাকিস্তানি নাগরিক আফিয়া সিদ্দিকীর ভাই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসের কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন।
ভয়েস অফ আমেরিকা এক রিপোর্টে জানায়, বেশিরভাগ আমেরিকানরা আফিয়া সিদ্দিকীর মামলা সম্পর্কে অবগত ছিল না। নিউইয়র্কে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর আলোচিত টুইন টাওয়ার হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের নজরে পড়েন আফিয়া। ২০০৪ সালের মে মাসে এফবিআই এবং বিচার বিভাগ তাকে আল কায়েদার একজন অপারেটিভ এবং মদদদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করে। ২০০৮ সালে আফিয়াকে আটক করে আফগানিস্তান কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি আফিয়া সিদ্দিকী একজন পাকিস্তানি বিজ্ঞানী, পড়াশুনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রান্ডিস ইউনিভার্সিটি এবং ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে। আল কায়েদার অপারেটিভ হিসেবে অভিযুক্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত হন। ম্যানহাটনের এক আদালত ২০১০ সালে তাকে অভিযুক্ত করে ৮৬ বছরের সাজা দেয়। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জেলে বন্দী রয়েছেন।
২০১০ সালে সিদ্দিকীর দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় পাকিস্তানে ক্ষোভের জন্ম দেয়। পরে, পাকিস্তানি সিনেট ২০১৮ সালে একটি প্রস্তাব পাস করেছিল, তাকে "জাতির কন্যা" বলে অভিহিত করেছিল এবং সরকারকে তার প্রত্যাবাসনের জন্য "নির্দিষ্ট পদক্ষেপ" নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।
এদিকে আল জাজিরার মতে, আফিয়া সিদ্দিকীর মুক্তির দাবিটি ইমরান খানের নির্বাচনী ইশতেহারেরও অংশ ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর খান সিদ্দিকীর নাম উল্লেখ করে তার মুক্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন।
দ্য টাইমস অফ ইসরায়েলের এক লেখায় সিপিএফএ (সেন্টার অফ পলিটিক্যাল অ্যান্ড ফরেন অ্যাফেয়ার্স) এর প্রেসিডেন্ট ফ্যাবিয়েন বাউসার্ট যুক্তি দিয়েছিলেন যে রাষ্ট্রকে সাধারণত ব্যক্তিদের কর্মের জন্য দায়ী করা যায় না তবে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, রাষ্ট্রের কয়েক দশকের প্রচেষ্টা একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য। একটি ধর্মীয়-রাজনৈতিক পরিচয় কেন্দ্রিক সমাজ তার পশ্চাদপসরণমূলক বর্ণনার জন্য রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা থেকেই যায়।