খুলনা মহানগরীসহ জেলায় চালের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে ছয় দিনই চালের বাজারে মূল্য পারদের মতো ওঠানামা করছে। কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী বাজারে মোটা চাল সর্বনিম্ন প্রতি কেজি ৪৪ টাকা এবং চিকন চাল সর্বোচ্চ ৬৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে গড়ে দুই থেকে তিন টাকা কম ছিল।
খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খুলনা জেলায় ধান ও চাল অস্বাভাবিক মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে কি না, ৭ জানুয়ারির মধ্যে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য চেয়ে পাঠান। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. বাবুল হোসেন খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। জেলা খাদ্য কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন জেলার কোনো রাইস মিল ও পাইকারি আড়তদারদের দোকানে অস্বাভাবিক মজুত নেই।
সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ মো. জাহিদুল ইসলাম তথ্য দিয়েছেন ধান ও চালের বাজার দর এবং মজুত পরিস্থিতির ওপর প্রতি সপ্তাহে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাতে হয়। সপ্তাহের ছয় দিনই চালের মূল্য ওঠানামা করে। তিনি বলেন, শীত মৌসুমে চাতালে ধান শুকাতে দেরি হওয়ায় বাজারে চালের সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে। অটো রাইস মিলে ২ হাজার মেট্রিক টন চাল এবং ৩ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত ধান মজুত রাখার নিয়ম থাকলেও সেই পরিমাণ মজুত নেই। তিনি মহানগরীর লবণচরার তিনটি এবং ডুমুরিয়া উপজেলার চারটি রাইস মিল পরিদর্শন করেছেন।
এর আগে গত বছরের ১ জুলাই কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ধান-চালের মাত্রাতিরিক্ত মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও মূল্যবৃদ্ধির কারণ উদ্ঘাটনে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে সদস্যসচিব করে গঠিত কমিটি প্রতিবেদন দেয়—অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। তাদের সুপারিশ ছিল মোটা ধানের আবাদ বৃদ্ধিসহ আমদানির মাধ্যমে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়াতে হবে।
সোবাহান অটো রাইস মিলের মালিক কাজী নিজাম উদ্দিন জানান, পাইকারি বাজারে চালের মূল্যবৃদ্ধি হয়নি। তবে খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে।