অডিও ক্যাসেটের যুগ থেকে এখন অবধি নিয়মিত ব্যান্ড মিউজিকের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন জনপ্রিয় ব্যান্ডসংগীতশিল্পী এস আই টুটুল। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি প্রকাশিত তার নতুন একটি গান দারুণ সাড়া ফেলেছে দর্শক-শ্রোতাদের মাঝে। রকলিজেন্ড আইয়ূব বাচ্চুর সঙ্গেও তার ছিল মধুর সম্পর্ক। আইয়ূব বাচ্চুর সঙ্গে তার সম্পর্ক, গানের ব্যস্ততাসহ ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে।
সম্প্রতি আপনার নতুন একটি গান প্রকাশিত হয়েছে। গানটি প্রসঙ্গে জানতে চাই
— আমি তো অডিও ক্যাসেটের মানুষ। ভিউ তেমন একটা বুঝি না। তবে আমার ‘এমনই এক ধাঁধা’ শিরোনামের এই গানটি এরইমধ্যে ১২ মিলিয়ন ভিউ হয়েছে। যা দেখে আমি খুবই আনন্দিত। কারণ কৌশিক হোসেন তাপসের লেখা, সুর ও সংগীতায়োজনে এমন সুন্দর একটি গানের মাধ্যমে আবারো দর্শক-শ্রোতাদের কাছে ফিরতে পারলাম। প্রায় ৭-৮ মাস ধরে অত্যন্ত যত্ন নিয়ে গানটি আমরা করেছি। এছাড়া গানটির মিউজিক ভিডিওটিতে একটি সিনেমাটিক গল্প রয়েছে। গানটি দেখলে মনে হবে একটি সিনেমা দেখলাম।
আপনার ব্যান্ড ‘ধ্রুবতারা’ ব্যান্ডের কার্যক্রম কেমন চলছে?
‘ধ্রুবতারা’র কার্যক্রম খুবই ভালো চলছে। সবাই একসঙ্গে প্র্যাকটিস এবং কনসার্ট করছি। তবে করোনার কারণে আবারো শোগুলো আবার বন্ধ হয়ে গেল। এ জন্য আমরা একটু চিন্তিত। কারণ গান গাওয়াই তো আমাদের পেশা, শো না থাকলে চলবো কীভাবে!
এমন অবস্থায় নতুনরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে কি-না?
দেখুন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর তো কারো হাত নেই। তাই অনিহা করে তো লাভ নেই। এই অবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা করা ছাড়া উপায় নেই। নিশ্চয় আল্লাহ আবার সব ঠিক করে দেবেন।
আইয়ূব বাচ্চুর সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তার কোন স্মৃতি এখনো আপনাকে ভাবায়?
আইয়ূব বাচ্চুর সঙ্গে আমার বাবা-ছেলে সম্পর্ক। তার কাছেই মিউজিশিয়ান টুটুলের জন্ম হয়েছে। অন্যদের চেয়ে ওনার কাছ থেকেই আমি বেশি শিখেছি। আমার জীবনের স্বর্ণালি দিনগুলো ওনার সঙ্গে কাটিয়েছি। আমার ২১ বছর বয়স থেকে ১৭-১৮ বছর ওনার সঙ্গে পার করেছি। এই দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকার ফলে ওনার হাসি, কথা বলার ধরণসহ অনেককিছুই আমার মাঝে চলে এসেছে। বলতে পারেন, ওনার প্রভাব এতটাই আমার মাঝে পড়েছে যে, এখন অজান্তেই সেগুলো প্রকাশ পায়।
অনেকেই বলেন, ব্যান্ড মিউজিকের দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি আপনার দৃষ্টিতে কেমন?
না, এই বিষয়টিতে একমত হতে পারলাম না। আমাদের ব্যান্ডগুলো তো এভাবেই শো করতো। এখনকার তরুণরা গান শুনলে ব্যান্ড সংগীতই শোনে। এমনকি ৪০-৫০ বছর আগের ব্যান্ড গানগুলো এখনো মানুষ শুনছেন। তাছাড়া এখনো ব্যান্ড মিউজিকের শো করতে গিয়ে দর্শকদের যে উন্মাদনা দেখি তাতে তো জনপ্রিয়তা কমছে বলা যায় না।
ইদানিং শিল্পীরা লেভেল কোম্পানির বাইরে গিয়ে এককভাবে গান রিলিজ দিচ্ছেন। এটা কী রয়্যালিটির কারণে?
না, আসলে এখন তো করোনার কারণে পরিস্হিতি অনুকূলে নেই। তাই এমনটা হচ্ছে। তবে টিএম মিউজিক থেকে কিন্তু অনেকেই গান করছেন। এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম দেখে হয়তো অন্যরাও অনুপ্রাণিত হবে।
আপনি সংগীতের সোনালি যুগ থেকে নিয়মিত কাজ করছেন। সেই সময়ের আলোকে বর্তমান ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
সে সময় তো একটি ক্যাসেট অনেক আয়োজন করে বের করা হতো। আমরা অনেক টাকা পেতাম। কিন্তু এখন তো ইউটিউবের যুগ এসেছে। ভিউয়ের ওপর আয় হয়। যদিও এটা সেভাবে বুঝি না। ফলে আমার গানও অনেকে বিক্রি করে আয় করছে। আমার মনে হয়, ইউটিউবের এখানে অফিস করে, শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গানগুলো আপলোড করা উচিত ছিল। তাতে শিল্পীরা কিছু টাকা পেতো। কিন্তু আমাদের একা খাওয়ার প্রবণতায় শিল্পীরা বঞ্চিত হচ্ছে।
সম্প্রতি গ্যালাক্সি নামের একটি আর্টিস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৫ বছরের জন্য চুক্তি করেছেন। হটাৎ এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণ কী?
এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বিশ্বের অন্যান্য দেশে থাকলেও আমাদের এখানে ছিল না। সেই জায়গায় টিএম মিউজিক দারুণ একটি উদ্যোগ নিয়েছে। আমি টিএম গ্যালাক্সির সঙ্গে এরইমধ্যে চুক্তি করেছি। এই ৫ বছর আমার শো থেকে শুরু করে সব তারা দেখভাল করবে। এই সময়ে আমি অন্যের কাজ করবো না, তা নয়। তবে তাদের মাধ্যমে করব।