কারা আসছেন ঢাবির ১৮ হল ছাত্রলীগের নেতৃত্বে

নানা আলোচনা সমালোচনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)-এর ১৮ হলের  ছাত্রলীগ শাখার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। 

বারবার কর্মীদের দেওয়া আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি নেতারা না রাখলেও এবারের হল সম্মেলন যথাযথভাবেই অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে করছেন পদপ্রত্যাশীরা। সম্মেলনের আগে শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে কর্মিসমাবেশ। ৫ দিনে ১৮ ধাপে এ কর্মিসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘবিরতির পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সম্মেলনকে ঘিরে আশা-আকাঙ্ক্ষা নেতাকর্মীদের। হল সম্মেলনের ওপর নির্ভর করে আছে অনেকের রাজনৈতিক পথ পরিক্রমা। নানা হিসাব-নিকেশ আর যোগ-বিয়োগের পর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের কর্মীরাই পরবর্তী সময়ে নেতৃত্বে আসবেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের। মূলত হল ছাত্রলীগে দায়িত্বপ্রাপ্তদের পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে গুরুত্বের সঙ্গে পদায়ন করা হয়। তাই এখন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সংজ্ঞায়নে সবার নজর হল কমিটির দিকে।

ছাত্রলীগের একটি সূত্র বলছে, এবারের হিসেবের খাতা অন্যবারের থেকে অনেকটা আলাদা হবে। ২০১৯ সালে দীর্ঘ ৩০ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হওয়ায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা এবারও ডাকসু নির্বাচন হবে। তাই নেতা নির্বাচনে সতর্ক থাকবে কেন্দ্রীয় ও ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতারা। এছাড়া, ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের ভোটে যারা নির্বাচিত হয়েছিল তারাই এবারের কমিটিতে গুরুত্ব পাবেন।

ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, সর্বশেষ হল সম্মেলনের পরই কোটা সংস্কার আন্দোলন আর নিরাপদ সড়ক সংস্কার আন্দোলন হয়েছিল। এই আন্দোলনকালীন সময়ে যারা সুবিধা বুঝে গা ঢাকা দিয়েছিল তাদের যেন এ কমিটিতে পদায়ন না করা হয়। দীর্ঘদিন হল সম্মেলন হয়নি, তাই এবার যোগ্য প্রার্থী বাছাই করাও অন্যবারের চেয়ে সহজ হবে বলে মনে করেন নেতারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা উৎসবমুখ পরিবেশে হল সম্মেলন করতে চাই। এর আগেই যদি করোনা সংক্রমণ বেড়ে যায়, তাহলে অডিটোরিয়ামে সম্মেলন করার প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে আগামী দিনের ছাত্রলীগের কর্মসূচি ও শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের নানা কার্যক্রম তুলে ধরতে চাই।’

সম্মেলনের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবেই এবারের সম্মেলন হবে বলে আমরা আশা প্রকাশ করছি। এবারের সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য, পরিশ্রমী, নেতৃত্বগুণ সম্পন্ন, শিক্ষার্থীবান্ধব নেতা নির্বাচনের চেষ্টা করবো। যারা শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে, শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলতে সমর্থ হবে তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হবে। আর যারা নির্বাচিত হতে পারবে না তাদের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে পদায়ন করবো আমরা।


হল  কমিটিতে  সম্ভাব্য সভাপতি ও সম্পাদক যারা হতে পারেন

স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হল
তানভীর সিকদার, সাইমুন ইসলাম বাপ্পী, মোস্তফা সরকার মিশাত, ইমন খান জীবন, মিলন খান, মো. হাকিমুল ইসলাম, আতিকুর রহমান আতিক, আরিফুল ইসলাম আরিফ।

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল
সাইফুল্লাহ আব্বাছী অনন্ত, সুরাপ মিয়া সোহাগ, কামাল উদ্দিন রানা, রুবেল হোসেন, হাফিজ উর রহমান, আমির হামজা।

স্যার এ. এফ রহমান হল
সালাহ উদ্দিন আহমেদ সাজু, মিজানুর রহমান রনি, মুহাম্মদ ফয়সাল মাহমুদ, আব্দুর রহিম সরকার, মুনিম শহরিয়ার মুন, রিয়াজুল ইসলাম, রায়হানুল ইসলাম মল্লিক।

হাজী মুহম্মদ মুহসিন হল
শহিদুল হক শিশির, মেহেদী হাসান মিজান, সম্রাট লিটন, রবিউল আউয়াল রবি, মাহমুদ হোসেন, সাদিল আব্বাস।

মাস্টার দা’ সূর্যসেন হল
মো. মারিয়াম সোহান, মো. সিয়াম রহমান, সৈয়দ শরিফুল আলম শপু, ইমরান সাগর।

বিজয় একাত্তর হল
সজিবুর রহমান সজিব, আবু ইউনুস, রবিউল হাসান রানা, হারুনুর রশিদ, তারিকুল ইসলাম, দিদার মাহমুদ আব্বাস, রাজিব আহমেদ, নাজমুল হাসান নিশান।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল
মেহেদী হাসান শান্ত, মোসান্নাল গালিব, জুলফিকার হোসেন পিয়াস, সিফাত খান, মাহবুবুর রহমান, ইসরাফিল, আকমল হোসেন, ইলিয়াস তুষার।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল
আব্দুল্লাহ-আল-সুবাইল, মাহমুদুল হাসান, আজহার, হাসিবুল হোসেন শান্ত, মুরাদ, আশরাফুল আলম অনিক।

কবি জসিম উদ্দীন হল
মো. ফরহাদ আলী, ওয়ালিউল সুমন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, মো. নাসির উদ্দিন, এনায়েত কবির, ইমাম হাসান, মো. লুৎফুর রহমান।

জগন্নাথ হল
হল সংসদের সহ সাধারণ সম্পাদক কাজল দাস ও হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক অতনু বর্মন, সজল দাস, সত্যজিত দেবনাথ।
 

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল
মো. ইরফানুল হাই সৌরভ, জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ), শরিফ আহমেদ মুনিম, মো. আশরাফুল ইসলাম, মামুন আলী।

ফজলুল হক মুসলিম হল
এনায়েত হোসেন, আবু হাসিব মুক্ত, আনোয়ার হোসেন নাইম, এহতেশামুল হক হৃদয়, আবু মুসা শুভ।

অমর একুশে হল
রুহুল আমিন শিপন, আহসান হাবীব, ইমদাদুল হাসান (সোহাগ), আলিফ আল আহমেদ, মঈনুল তানভীর, রাতুল হোসেন নাইম।

রোকেয়া হল
প্রীথা অন্তরা দাস, আতিকা ইসলাম আবির, মাসুমা, ফাল্গুনী দাস তন্বী।

বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হল
রাজিয়া সুলতানা কথা ও জান্নাতুল হাওয়া আঁখি।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল
কোহিনুর আক্তার রাখি, সানজিনা ইয়াসমিন, মোসা. সাবরিনা খাতুন, রাবেয়া তাপসী।

সুফিয়া কামাল হল
মিতালী মন্ডল, রিমা আক্তার (লাবিসা), পূজা কর্মকার।

শামসুন্নাহার হল
নুসরাত রুবাইয়াত লীনা, সাবরিনা তাবাসসুম নিথিয়া, শেহেরজান হক শেহের, বিশাখা দাশ ইরা, উর্মী।