র‍্যাগ-ডে'র চাঁদা অসচ্ছ্বল শিক্ষার্থী ও শীতার্তদের জন্য ব্যয় করলেন তারা

চারবছরের স্নাতক শেষ করে র‍্যাগ-ডে উদযাপন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর গতানুগতিক দৃশ্য হল আবির মাখা, সাংস্কৃতিক আয়োজন কিংবা গালা নাইট। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা করেছে ভিন্নরকম আয়োজন।

গতানুগতিক নাচ-গান নয়, র‍্যাগ-ডে তথা শিক্ষা সমাপনীর জন্য সংগ্রহ করা চাঁদা দিয়ে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে বিভাগটি।

ভিন্ন এ উদ্যোগ সম্পর্কে বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. কামরুজ্জামান বাবু বলেন, প্রতিবছর শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে সবাই। আমরা প্রচলিত পথে হাটিনি। আমাদের শিক্ষক ড. আরসাম কুদরত এ খোদার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই চিরাচরিত প্রথা থেকে বেরিয়ে এসেছি। আরসাম কুদরত এ খোদা সাহেবের পিতাও আমার শিক্ষক ছিলেন। তিনি বলতেন, আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে ব্যক্তি শুদ্ধ হয় আর ব্যক্তি শুদ্ধির মাধ্যমে সমাজ শুদ্ধ হয়।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় কলা ভবনের পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগ ১১তম ব্যাচের স্মারক বৃত্তি প্রদান কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে ঢাবি কলা অনুষদের ডিন ড. আবদুল বাছির, পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও একুশে পদক প্রাপ্ত অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া ও বর্তমান চেয়ারম্যান ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া সহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এমন উদ্যােগে আনন্দ প্রকাশ করে অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, এখানে দুটি বিষয় সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমত, নতুন চেতনা ও মৌলিক চিন্তা সৃষ্টি হয়েছে। যা আগামীতে র্যাগডে না করে মানবিক ও গঠনমূলক কাজে শিক্ষার্থীদের প্রেরণা যোগাবে।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির বলেন, পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন বার্তা দিয়েছে। এই মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করেই যেন আমার শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যায়, সেই কামনা থাকবে।