কাপ্তাই লেকের ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়াচ্ছে পরিযায়ী পাখি। এসব পরিযায়ী পাখি দূর-দূরান্ত হতে কাপ্তাই লেকে উড়ে আসে বলে জানা গেছে। আগামী বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়া পর্যন্ত এসব পরিযায়ী পাখি কাপ্তাই লেকের ওপর থাকবে। এসব পাখি কখনো কখনো লেকের ভেসে ওঠা জমিতে দল বেধে বসে থাকে আর না হলে লেক তীরবর্তী কোনো গাছের ডালে বসে থাকে। খাবার প্রয়োজন হলে লেকের হালকা পানিতে হরেক রকমের মাছ শিকার করে খায়।
কাপ্তাই জেটিঘাট থেকে নৌ পথে বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি, বরকল, লংগদু, রাঙ্গামাটি সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার পথে বিশেষ করে নির্জন স্থানে এসব পাখির দেখা পাওয়া যায়। স্থানীয় শ্যাম রতন চাকমা বলেন, প্রতি বছর হাজার হাজার মাইল দূর থেকে এসব পাখি কাপ্তাই লেকে উড়ে আসে। এসব পাখি সাধারণত নির্জন এলাকায় বিচরণ করে। বেশির ভাগ সময় দলবদ্ধভাবে বসে থাকে। তবে মানুষের দেখা পাওয়া গেলে বা অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ শুনলে পাখির দল মুহূর্তে আকাশে উড়ে যায়। কাপ্তাই লেকের আশ-পাশে যারা বসবাস করেন তারা সাধারণত পাখিকে বিরক্ত করেন না বলেও তিনি জানান। স্থানীয় আসমা আক্তার বলেন, যেসব নির্জন এলাকায় পরিযায়ী পাখি বিচরণ করে সেখানে যাতে কোনো মানুষ যাতায়াত না করে সেজন্য আমরা সবাইকে উদ্বুদ্ধ করি। আর বিশেষ প্রয়োজনে কেউ যাতায়াত করলেও পাখি বিরক্ত হয় এমন কাজ না করার জন্য আমরা বরাবরই সবাইকে অনুরোধ করি।
কাপ্তাই বোটচালক সমিতির সভাপতি মো. ইদ্রিস বলেন, প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে আমাদের বোট কাপ্তাই লেকের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে। যেসব এলাকায় পরিযায়ী পাখি বিচরণ করে আমরা সেসব এলাকা দিয়ে যাতায়াত করি না। কখনো যাতায়াতের প্রয়োজন হলে যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রেখে চলার চেষ্টা করি। পাখিগুলো দেখতে অনেক সুন্দর লাগে তাই পাখির ক্ষতি হয় বা পাখি বিরক্ত হয় এমন কাজ কোনো বোটচালকরা করে না বলেও তিনি জানান।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান বলেন, পরিযায়ী পাখিকে নিরাপদ রাখতে আমরা সব ধরনের কাজ করে যাচ্ছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মাসিক সমন্বয় সভায় কেউ যাতে পাখি শিকার না করতে পারে সে বিষয়ে হুঁশিয়ার করা হয়েছে।