চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান সংকটে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত

চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান সংকটের কারণে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। রৌমারী উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় সোয়া দুই লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১০ বছর আগে হাসপাতালটি ৫০ শঘ্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু এখনো ৩১ শঘ্যার জনবল দিয়েই চলছে সেবা। হাসপাতালে এক্সরে, ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ান ও ডাক্তারের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। হাসপাতালে এসে ডাক্তার না পেয়ে ফিরে যেতে হয় রোগীদের।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানা যায়, ২০১১ সালে হাসপাতালটি ৩১ শঘ্যা থেকে ৫০ শঘ্যায় উন্নীত হলেও এখনো কাগজ-কলমে ৩১ শঘ্যার জনবল দিয়ে চলছে। ২২ জন চিকিৎসকের মধ্যে মাত্র ছয় জন, ২৫ নার্সের মধ্যে আছে ১২ জন, ল্যাবসহ চার জন টেকনিশিয়ানের মধ্যে শূন্য, ছয় জন আয়ার মধ্যে শূন্য, তিন জন অফিস সহকারীর মধ্যে শূন্য, ছয় জন এমএলএসএস এর মধ্যে এক জন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী পাঁচ জনের মধ্যে আছে তিন জন। চিকিৎসাসেবা নিতে আশা রোগী হেলাল উদ্দিন বলেন, ডাক্তার ঠিকমতো হাসপাতালে থাকেন না। হাসপাতালে সকাল ১০টার সময় এসেছি। দুপুর হয়ে গেছে কিন্তু ডাক্তারের সিরিয়াল পাইনি। বাগুয়ারচর গ্রামের আমিনা খাতুন বলেন, আমার মেয়ে রক্তশূন্যতা রোগের জন্য রৌমারী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করি। কোন পরীক্ষানিরীক্ষা হাসপাতালে হয় না। বাইর থেকে করাতে হয়। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ওষুধপত্র কিনে খাওয়াতে হয়।

ইছাকুড়ি গ্রামের ছাবের আলী বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ অপরিষ্কার ও দুর্গন্ধযুক্ত। ডাক্তার ডেকে পাওয়া যায় না। ওষুধপত্র সব বাইর থেকে কিনতে হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করি। রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান জনবল স্বল্পতার কারণে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। টেকনিশিয়ান ও চিকিৎসক সংকট রয়েছে। ফলে হাসপাতালে এক্সরে, ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও মানুষ সুবিধা পাচ্ছে না।