ঝিনাইদহে গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা

ঝিনাইদহে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম বাংলার ঐহিত্যবাহী গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে সদর উপজেলা বেতাই গ্রাম পরিণত হয়েছিল উৎসবের গ্রামে। যা দেখতে ভিড় করেছিল বিপুল সংখ্যক দর্শক। করোনার মধ্যে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্যবিধি ছিল উপেক্ষিত। 

রবিবার (২৩ জানুয়ারি) কনকনে শীত আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সকাল থেকে বেতাই গ্রামের মাঠে হাজির হয় ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক দর্শক। ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ নানা বাহনে সেখানে জড়ো হয় নারী-শিশু ও বৃদ্ধরা। মঞ্চ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গরু ও গাড়ি নিয়ে ছয়টি সারিতে চলে দৌড়ের প্রস্তুতি। বাঁশিতে ফু দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়োয়ানদের হাতের ছোঁয়ায় যেন মুহূর্তে পালটে যায় চিত্র। একে অপরকে পেছনে ফেলতে ছুটতে থাকে বিদ্যুৎ গতিতে। যা দেখে উল্লসিত হয় দর্শকরা।

দিনভর উত্তেজনাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ঝিনাইদহ, যশোর এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে আসা ২৫টি গরুর গাড়ি। গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা উপলক্ষে মাঠে বসে গ্রামীণ মেলা। নানা পণ্যের পসরা বসে সেখানে। রোমাঞ্চকর এই প্রতিযোগিতা দেখে খুশি হয় দর্শকরা। তাই এ ধরনের আয়োজন প্রতি বছর করার দাবি তাদের। এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় যশোরের বাঘারপাড়ার নজরুল ইসলাম মুন্সির গরুগাড়ি। তাকে পুরস্কার হিসাবে দেওয়া হয় একটি টেলিভিশন। দ্বিতীয় হয় ঝিনাইদহের মহেশপুরের দোলন হোসেন। তাকে বাইসাইকেল ও তৃতীয় যশোরের রহমত আলিকে ফ্যান পুরস্কার দেওয়া হয়। 

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ-কারী ঝিনাইদহ সদর উপজেলার জিয়ালা গ্রামের কবির হোসেন বলেন, সারা বছর চাষাবাদে ব্যস্ত থাকি। বছরে এক দিন এ প্রতিগোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য অপেক্ষায় থাকি। তিনি বলেন, মানুষকে আনন্দ দিয়ে আনন্দ লাভের জন্যই দূর থেকে এসেছেন। ঝিনাইদহ শহর থেকে আসা দর্শক অন্তর মাহমুদ বলেন, তারা কয়েক বন্ধু এ প্রতিযোগিতা দেখতে এসেছেন। খুব আনন্দ ও মজা পেয়েছেন। 

প্রতিযোগিতার আয়োজক গান্না ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আতিকুল হাসান মাসুম বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে বেতাই গ্রামের মাঠে গরুর গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতা হয়ে আসছে। গ্রামের মানুষকে আনন্দ দেওয়া, আর গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এই আয়োজন বলে জানান তিনি।