জমি দখল করে মসজিদ নির্মাণ ও ইসলামি বিধান

পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্রতম স্থান মসজিদ। মহান আল্লাহর বান্দারা স্বর্গীয় শান্তি ও স্বস্তি ফিরে পান দৈনিক পাঁচ বার মসজিদে এসে নামাজ আদায় করেন। কিন্তু আল্লাহর ঘর এই মসজিদের জায়গাটি যদি হয় অবৈধ ও দখলকৃত সম্পত্তির ওপর, তাহলে এটি যেমন দুঃখজনক ঘটনা; তেমনি মহান আল্লাহর সঙ্গে একধরনের প্রতারণাও বটে। আমাদের দেশে একটি চক্র প্রথমে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সরকারি ভূমিতে একটি মসজিদ নির্মাণ করে। তারপর সেই মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলে নানা অবৈধ স্থাপনা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইয়েদ আব্দুল্লাহ আল মারূফ বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের জন্যই মসজিদ নির্মিত হতে হবে। কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে যদি মসজিদ নির্মাণ করা হয়, তাহলে সেটা শরিয়তের বিধান অনুসারে মসজিদ হিসেবে গণ্য হবে না। মসজিদ নির্মাণ যদিও ভালো আমল, কিন্তু জমি দখল করে মসজিদ নির্মাণ একটি অসাধু কাজ। রসুল (সা.) বলেছেন, প্রতিটি কাজের ভালোমন্দ নির্ভর করে তার নিয়তের ওপর। তিনি বলেন, অসৎ উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছে, এমন একটি মসজিদ রসুলুল্লাহ (সা.) গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা ইসলামের ইতিহাসে মসজিদে জেরার নামে পরিচিত।

দখলদারদের আইনের আওতার আনার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও স্যাটেলাইট চ্যানেলের ধর্মীয় আলোচক ও ইত্তেফাকের ধর্মচিন্তা পাতার লেখক হাফেজ মাওলানা কাজী মারুফ বিল্লাহ বলেন, নিঃসন্দেহে সামান্য ধর্মজ্ঞান যাদের রয়েছে তারাও জানেন যে, শান্তির ধর্ম ইসলামের দৃষ্টিতে জবরদখল করে মসজিদ কিংবা মাদ্রাসা নির্মাণ সুস্পষ্ট অন্যায়। এ বিষয়ে বিজ্ঞ মুফতিদের ফতোয়া হলো: ‘কারো মালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক মসজিদ নির্মাণ করা জায়েজ নেই। মসজিদ নির্মাণ করতে হলে নির্ভেজাল জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ হওয়া জরুরি।

রসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে নববির জমি তাকে বিনা মূল্যে উপহার হিসেবে দিতে চাইলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। তিনি জমির মূল্য বাজারদর অনুযায়ী পরিশোধ করার পর মসজিদ নির্মাণ করেছেন। সৈয়দ আমির আলী লিখেছেন, ‘যে জমির ওপর মসজিদে নববি নির্মাণের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা ছিল দুই ভ্রাতার। জমিটি তারা দান করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যেহেতু তারা ছিলেন এতিম। তাই রসুলুল্লাহ (সা.) তাদের জমির মূল্য প্রদান করেছিলেন। (দ্য স্পিরিট অব ইসলাম, পৃষ্ঠা ১১৭।)

ওয়াকফবিহীন জমিতে মসজিদ নির্মাণ করা হলে সেটা শরিয়হ মসজিদ হবে না। যদি কোনো জমির মালিক তার জমি ওয়াকফ করতে রাজি না হন এবং জোরপূর্বক তার জমিতে মসজিদ নির্মাণ করা হয়, তাহলে ঐ মসজিদ ভেঙে জমি তার মালিককে ফেরত দিতে হবে। (ফাতওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪৮; রদ্দুল মুহতার, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা ৩৯০)

লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট