রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন মগবাজারে ফ্ল্যাটে ঢুকে এক ভাড়াটিয়া বাসিন্দাকে মারধর ও বাসার জিনিসপত্র তছনছ করার ঘটনায় খাদ্য অধিদফতরের এক পরিদর্শককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতের নাম খোরশেদ আলম মাসুদ (৪০)। তিনি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় কর্মরত। শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে সেগুনবাগিচায় তার ফ্ল্যাট থেকে হাতিরঝিল থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।
হাতিরঝিল থানার ওসি আব্দুর রশিদ বলেন, মগবাজারের পেয়ারাবাগের ৬৩৬ নম্বর বাড়ির ২/বি নম্বর ফ্ল্যাটের মালিক খোরশেদ ও তার স্ত্রী নাহিদ তন্ময় তনু। তারা সেগুনবাগিচায় নিজেদের ফ্ল্যাটে থাকেন। পেয়ারাবাগের ফ্ল্যাটটিতে নাহিদ তার পছন্দের ভাড়াটিয়া সাংবাদিক এমদাদুল হক খানকে ভাড়ায় থাকতে দেন। সম্প্রতি ওই ফ্ল্যাটটি খোরশেদ তার বোনের নামে লিখে দিতে চান। ওই বাড়িতে খোরশেদের বাবা ও আরেক বোনের নামে দুইটি ফ্ল্যাট রয়েছে। বোনকে লিখে দেওয়া নিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বেশ কয়েক দফা মারামারি হয়। গত বুধবার রাত ১১ টার দিকে খোরশেদ পেয়ারাবাগের ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে ভাড়াটিয়া বাসিন্দা এমদাদুল হক খানকে মারধর করে। ভাড়াটিয়া বাসিন্দার স্ত্রীর শ্লীলতাহানি করার অভিযোগও ওঠে খোরশেদের বিরুদ্ধে। ওই ফ্ল্যাটের জিনিসপত্র তছনছ করে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় এমদাদুল হককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় এমদাদুল বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় খাদ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক খোরশেদ আলম মাসুদকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ শুক্রবার রাতে সেগুনবাগিচার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে খোরশেদকে গ্রেফতার করে।
এদিকে, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) এমদাদুল হক খানের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে। ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব এবং ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিকু পৃথক বিবৃতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, খোরশেদ আলম মাসুদের বিরুদ্ধে খাদ্য অধিদপ্তরে ৪৭ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ দুদকে তদন্তাধীন। এছাড়া ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে খোরশেদ আলম মাসুদের তালিকায় নাম রয়েছে। ইতোমধ্যে খোরশেদ আলম মাসুদকে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে দুদক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।