ছুটির দিন মানেই যেন বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ঢল। ইচ্ছামতো ঘোরাঘুরি, আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া আর পছন্দের জিনিস কেনাকাটা। সব মিলিয়ে গতকাল ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, আর মাত্র তিন দিন পরই শেষ হচ্ছে এবারের বাণিজ্য মেলা। যে কারণে অন্য দিনের তুলনায় গতকাল দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল আরো বেশি। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৮৫ হাজারের বেশি মানুষ টিকিট কেটে মেলায় প্রবেশ করে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, মেলায় এখন যারা আসছেন তাদের বেশির ভাগই কিছু না কিছু কিনছেন। ফলে কেনাকাটাও হচ্ছে প্রচুর। মেলার বাকি কদিন ভালো বেচাকেনা হবে বলে আশা তাদের। গতকাল মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের বেশি ভিড় ছিল শীতবস্ত্র, গৃহস্হালির ব্যবহৃত পণ্য, অ্যালুমিনিয়ামের পণ্য, নারীদের প্রসাধনী, ইলেকট্রনিকস পণ্য ও খাবারের স্টলে।
দিল্লি অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবস্হাপক ইয়াছিন গণি চৌধুরী বলেন, তাদের স্টলে ৭০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের পণ্য রয়েছে। কেউ স্টলে প্রবেশ করলে খালি হাতে ফেরার সুযোগ নেই। বিক্রিও ভালো হচ্ছে বলে জানান তিনি। নাবিস্কো বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ফ্যাক্টরি লিমিটেডের বিক্রয়কর্মী পুষ্পা কান্তা পাল বলেন, গতকাল ১০ ভাগ ছাড়ে তাদের পণ্য বিক্রি করেছেন। বিক্রিও হয় প্রচুর। আখতার ফার্নিচারের বিক্রয়কর্মী জামাল উদ্দিন বলেন, মেলার শেষ মুহূর্তে কেনাবেচার ধুম পড়েছে। কাশ্মীরি শালের দোকান হ্যারিটেজ কোম্পানি লিমিটেডের বিক্রয়কর্মী রিপন চন্দ্র বণিক বলেন, মেলায় শাল বিক্রি হয়েছে প্রচুর। গত এক সপ্তাহের বিক্রিতে তারা খুশি। খাবারের স্টল মি. বাইটের স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার মো. খোকন বলেন, ভিড়ের জন্য স্টলের নির্দিষ্ট আসনে স্হান না পেয়ে অনেকেই দাঁড়িয়ে খাবার খেয়েছেন। এতে তারাও দারুন খুশি।
গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থেকে মেলায় আসা পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাল্যকালের নাবিস্কো সুপার বিস্কুটের স্বাদ গ্রহণ করেছি। এবার বাণিজ্য মেলায় এসে সেই বিস্কুটের ঘ্রাণে কিশোর বয়সে ফিরে গেছি।’