বান্দরবানের সুয়ালক খালে রাবার ড্যাম ও ব্রিজ

বান্দরবান সদর উপজেলার ৪ নম্বর সুয়ালক ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকায় সুয়ালক খালে নির্মাণ করা হয়েছে ৪৫ মিটার দীর্ঘ রাবার ড্যাম ও ব্রিজ। রাবার ড্যামের ফলে চাষাবাদের আওতায় এসেছে দুই পাড়ের হাজার হাজার হেক্টর অনাবাদি কৃষি জমি।

পাশাপাশি ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে দুই পাড়ের বিপুল সংখ্যক ঘরবাড়ি। বান্দরবান ও চন্দনাইশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হওয়ায় রাবার ড্যাম ও ব্রিজকে কেন্দ্র করে পর্যটন ও অর্থনৈতিক জোন গড়ে উঠছে। জেলা সদরের সঙ্গে স্থাপিত হয়েছে সেতুবন্ধ। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির শতভাগ কাজ শেষ হওয়ায় জনগণের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের অর্থায়নে ২০১৯-২০, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে রাবার ড্যাম ও ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতি বছর শীত মৌসুমে সেচ সুবিধা না থাকায় পানির অভাবে চাষাবাদ করতে পারত না সুলতানপুর ও পুরানগর এলাকার কৃষকরা। এতে অনাবাদি পড়ে থাকত উভয় এলাকার প্রায় এক হাজার হেক্টরের বেশি জমি। এছাড়াও ভাঙনের কবলে পড়ত দুই পাড়ে বসবাসরত মানুষের শত শত ঘরবাড়ি। প্রতি বছর বর্ষায় নদীর পানি বেড়ে গেলে ভোগান্তিতে পড়তে হতো সাধারণ মানুষ কৃষক ব্যবসায়ীসহ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের। যাতায়াতের কোনো রাস্তা না থাকায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নানা পণ্য বাজারে নেওয়া ছিল বেশ কষ্টকর। জরুরি প্রয়োজন ও রোগী বহনে ৪ থেকে ৬ কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হতো স্থানীয়দের। কিন্তু রাবার ড্যামটি নির্মিত হওয়ায় চাষাবাদের আওতায় এসেছে বিপুল পরিমাণ অনাবাদি জমি। খালের দুই পাড়ে সিমেন্টের তৈরি ৫০ হাজার ব্লক দিয়ে বাঁধ তৈরি করায় ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে দুই পাড়ের শতাধিক বাড়িঘর।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন পারভীন তিবরিজী জানান, রাবার ড্যাম ও ব্রিজ নির্মাণের ফলে অনাবাদী কোনো জমি পড়ে থাকবে না। বর্ষাকালে কোনো ঘরবাড়ি ভাঙবে না। কৃষিপণ্য সহজে বান্দরবান ও চট্টগ্রামে নিয়ে বিক্রি করা যাবে। কৃষক পরিবারসমূহে আসবে সচ্ছলতা। এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জীবনমান বাড়বে। 

বিএডিসির সহকারি পরিচালক মো. আবু নাইম জানান, রাবার ড্যামটি চালু হওয়ায় বর্ষায় রাবার ড্যামের মাধ্যমে এক দিকে পানি সংরক্ষণ করে সেচ সুবিধা পাবে কৃষকরা। সড়কে যোগাযোগের ফলে এলাকার কৃষির বিস্তার ঘটবে। পর্যটন ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠবে। 

সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উক্যনু মারমা জানান, সুলতানপুর ও পুরানগর এলাকাটি বান্দরবানের সবজি ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। এখানকার উৎপাদিত বিভিন্ন ফল, সবজি ও নানা ফসল বান্দরবান শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। ধান চাষের বিপুল পরিমাণ জমি থাকলেও দীর্ঘকাল ধরে সেচের পানির অভাবে বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি থাকত।