দীঘিনালার দুর্গম গ্রামে খাওয়ার পানির সংকট

পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার পিছিয়েপড়া গ্রাম ‘বিঞ্চু কার্বারি পাড়া’, যা হাজাপাড়া নামে অধিক পরিচিতি। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামে আছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি সেবার ছোঁয়া পৌঁছেনি সেখানে।

দীঘিনালা ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নে প্রায় দেড় শ পরিবার নিয়ে খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত গ্রাম ‘বিঞ্চু কার্বারি পাড়া’টি সব দিক দিয়েই পিছিয়ে রয়েছে। এই গ্রামের প্রধান সমস্যা হচ্ছে খাবার পানি। গিরি-ঝিরির পানি পান করে তাদের প্রায়ই ডায়রিয়াসহ নানা অসুখে ভুগতে হয়। দরিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী মানুষগুলোর ঘর জীর্ণ। শনের ছাউনি আর বেড়াঘরে তাদের বসবাস। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত এই গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলো পায়নি প্রধানমন্ত্রীর একটি বাড়িও। জুমচাষ নির্ভর এসব মানুষের ভিন্ন আয়ের কোনো পথ নেই। যোগাযোগের জন্য অতি সম্প্রতি কাঁচা রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এখনো পাহাড়-ছড়া পেরিয়ে জুমে উৎপাদিত পণ্য কাঁধে নিয়ে বাজারে যেতে হয়।

এলাকায় নেই কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক। কেউ অসুস্থ হলে ১০ কিলোমিটার দূরে দীঘিনালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। অনেকের পক্ষেই যাওয়া সম্ভব হয় না। বহু কষ্টে কেউ কেউ নিয়মিত টিকা দিতে পারলেও অনেকের ভাগ্যে তাও জুটে না। গ্রামে যান না কোনো স্বাস্থ্যকর্মী। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও দুর্গম হওয়ার কারণে শিক্ষকরা গিয়ে সেখানে থাকতে পারেন না। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তর শেষে ঝড়ে পড়ে।

বিঞ্চু কার্বারী পাড়ার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শংকর ত্রিপুরা জানান, এখানে একটি মাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তে হলে প্রায় ৬-৭ কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়। এলাকার ভূমিধন ত্রিপুরা জানান, সন্ধ্যা নামলে মনে হয় গ্রামটিতে ভূতুড়ে পরিবেশ। এলাকার প্রাথমিক শিক্ষক বজেন্দ্র ত্রিপুরা জানান, এলাকার প্রধান সমস্যা পানি। এখনো এলাকার লোকজন ছড়ার পানি পান করে। ছড়ার পানি আনতে হয় অনেক দূর থেকে। ছড়ার পানি পান করার কারণে রোগব্যাধি লেগেই থাকে। ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ভুবন মোহন ত্রিপুরা জানান, বিঞ্চু কার্বারী পাড়ার ক্যাম্প থেকে শিবমন্দির পর্যন্ত বর্তমানে রাস্তার কাজ চলছে। কিন্তু এই আরো ২-৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও ব্রিজ না হলে এলাকার দুর্ভোগ কমবে না। ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার লাকী জানান, রথি চন্দ্র কার্বারী পাড়া, বিঞ্চু কার্বারী পাড়া ঘুরে দেখেছি এসব গ্রাম দুর্গম। গরিব-অসহায়দের জন্য সরকারের সব সুযোগসুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদার জানান, রাস্তা হয়ে গেলে তারা দ্রুত চিকিৎসা সেবা পাবেন। দীঘিনালার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা মোস্তফা জানান, অবহেলিত বিঞ্চু কার্বারী পাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে রাস্তার নির্মাণের কাজ চলছে। স্যানিটেশন নিয়েও কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে অবহেলিত যেসব গ্রাম রয়েছে তাদের সব ধরনের সরকারি সুযোগসুবিধার আওতায় আনা হবে। দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কাশেম জানান, এই গ্রামটি দুর্গম হওয়ায় আগে রাস্তা ছিল না। বর্তমানে রাস্তার কাজ চলছে।