শীতে কাঁপছে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী। ঘন কুয়াশা আর হিম ঠান্ডা বাতাসে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিপাকে পরেছে খেটে খাওয়া মানুষ। শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ৯ টায় এ উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শীতের তিব্রতা বাড়ায় চরম কষ্টে পড়েছে উপজেলার ধরলা,বারোমাসিয়া,নীলকমলসহ বিভিন্ন নদ-নদীর চরাঞ্চল ও নদী পাড়ে বসবাসকারী মানুষ। পাশাপাশি দূর্ভোগে পড়েছে উপজেলার হাজারো দিনমুজুর, পাথরভাঙ্গা শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, মাটিকাটা শ্রমিক, অটো রিকশাচালক, মুটে শ্রেণীর শ্রমজীবী।
উপজেলা জুরে শুরু হয়েছে মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ। এই অবস্থা আরও ২-৩ দিন থাকতে করতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পরেছে শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষ। কৃষি ক্ষেতে শ্রমিকরা এবং যানবাহন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষগুলো পরেছে বিপাকে। এছাড়াও কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে বোরো বীজতলা ও আলু ক্ষেত নিয়ে শংকায় রয়েছে কৃষক। তীব্র ঠান্ডা উপেক্ষা করে কৃষকরা করছেন বোরো রোপনের কাজ। কুয়াশার কারণে হেড লাইট জ্বালিয়ে সড়কে চলাচল করে যানবাহন। শীত বাড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু,বৃদ্ধ, ছিন্নমুল ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ।
ফুলবাড়ী হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছেন, ঠান্ডাজনিত রোগ বিশেষ করে জ্বর,সর্দি, কাশি নিয়ে হাসপাতালে অনেকে ভর্তি হচ্ছেন। এদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বেশী।
উপজেলা নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পুর্বফুলমতি গ্রামের আলু চাষি তৈয়ব আলী ও কুরুষাফেরুষা গ্রামের আলু চাষি ঈশা মিয়াসহ অনেকেই জানান, এবারে অনেক খরচ করে আলু লাগিয়েছি। তীব্র ঠান্ডার কারণে সদ্য বেড়ে ওঠা আলু ক্ষেত নিয়ে চিন্তায় আছি।
এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, শনিবার সকাল ৯টায় এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয়েছে ৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন পরিস্থিতি আগামী সোমবার পর্যন্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।