স্বরূপকাঠিতে তৈরি হচ্ছে ক্রিকেটের নানা সামগ্রী

দেশের কুটিরশিল্প সমৃদ্ধ এলাকার মধ্যে অন্যতম উপজেলা স্বরূপকাঠি। ক্রিকেটের প্রাকটিস ম্যাট, ক্রিকেট ব্যাট, ক্রিকেট স্ট্যাম্প ও বেল ইত্যাদি সামগ্রী তৈরিতে স্বরূপকাঠি আজ সুপরিচিত। এসব শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থেকে শত শত মানুষ জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে তৈরি হচ্ছে ক্রিকেট খেলার প্রাকটিসের জন্য ক্রিকেট ম্যাট। ক্রিকেট প্রাকটিসের প্রধানতম সামগ্রী ক্রিকেট ম্যাট তৈরি হয় নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের বেলতলা এলাকায়। স্বাধীনতার পর ঐ এলাকার মো. কাবারেক মিয়া নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে তৈরির ক্রিকেট ম্যাট তৈরি শুরু করেন। পাকিস্তান আমলে শ্রীলঙ্কা ও ভারত থেকে ছোবড়া দিয়ে তৈরি কৃত্রিম ম্যাট আমদানি করে এ দেশে ক্রিকেট প্রাকটিসে ব্যবহার করা হতো। তখনকার পাপোশ ব্যবসায়ী মো. কাবারেক মিয়া ঢাকায় নারিকেলের ছোবড়ার তৈরি ক্রিকেট ম্যাট দেখে বাড়িতে এসে ক্রিকেট খেলার ম্যাট বানানো শুরু করেন। তৎকালীন ক্রিকেট ম্যাটের চাহিদা কম থাকায় কারখানা বেশিদিন চালু রাখতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৮ সাল থেকে ক্রিকেট ম্যাট তৈরি শুরু করেন দি পিপলস কয়ার ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক মো. মহিউদ্দিন (তোতামিয়া)। 

ক্রিকেট ম্যাট তৈরির কারিগররা জানান, ৬৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও আট ফুট চওড়া এবং প্রায় আধা ইঞ্চি পুরু একটি ম্যাট তৈরি করতে চার জন শ্রমিকের পাঁচ দিন সময় লাগে। সব মিলিয়ে ক্রিকেট ম্যাট তৈরিতে ৩০/৩২ হাজার টাকা খরচ হয়। সরজমিনে বেলতলার দি পিপলস কয়ার ইন্ডাস্ট্রিজ ঘুরে দেখা যায় তাঁতের শাড়ির মতো করে ক্রিকেট ম্যাট তৈরির শ্রমিকরা নারিকেলের ছোবড়ায় তৈরি রশি (কাতরা) দিয়ে কৃত্রিম ম্যাট তৈরি করছেন। ম্যাটের ওপরে দুই স্তর ও নিচে এক স্তর কাতরা রশি দিয়ে এ ম্যাট তৈরি করেন শ্রমিকরা। 

দি পিপলস কয়ার ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক মো. মহিউদ্দিন (তোতা মিয়া) জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রিকেট একাডেমিতে নারিকেলের ছোবড়ার তৈরির ক্রিকেট ম্যাট এখান থেকে সরবরাহ করা হয়। তিনি দাবি করেন নারিকেলের ছোবড়া দিয়ে ম্যাট তৈরির তার প্রতিষ্ঠানটিই বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান। তিনি আরও জানান ক্রিকেট মৌসুমে ৩৫/৪০টির ক্রিকেট ম্যাটের চাহিদা রয়েছে।

স্বরূপকাঠির আরেক কুটির শিল্পের নাম ক্রিকেট ব্যাট শিল্প। ক্রিকেট খেলা জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় ক্রিকেট ব্যাটের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পায়। ফলে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের উড়িবুনিয়া, গগন, বিন্না, জিলবাড়ী, বিন্না, চামীসহ বিভিন্ন গ্রামে গড়ে ওঠে দুই শতাধিক ক্রিকেট ব্যাট তৈরির কারখানা। বিভিন্ন সাইজের ক্রিকেট ব্যাট তৈরি হয় ঐসব কারখানায়। এসব কারখানায় তৈরিকৃত ক্রিকেট ব্যাট সারা দেশে বিক্রি হয়। খেলনা এ ক্রিকেট ব্যাটের চাহিদার বেশির ভাগই যোগান দেওয়া হয় স্বরূপকাঠি থেকে। 

ক্রিকেট ব্যাট প্রস্তুতকারী উড়িবুনিয়া গ্রামের মো. বাচ্চু মিয়া বলেন করোনার কারণে তাদের ব্যবসায় মন্দা চলছে। এদিকে ক্রিকেট খেলার আরেকটি উপকরণ স্ট্যাম্পও তৈরি হয় কৌরিখাড়া বিসিক শিল্প নগরীর বিভিন্ন কারখানায়। ক্রিকেটের এসব সামগ্রী তৈরিতে নারিকেলের ছোবড়া, দেশি কাঠ কদম, ছাতিয়ান, গেওয়া, শিমুল, গামারী, দেবদারুসহ বিভিন্ন প্রকার কাঠ ব্যবহৃত হয়।

পিরোজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা নকীব ইত্তেফাককে বলেন, দেশের ক্রিকেট খেলার অনুশীলনে স্বরূপকাঠির কুটিরশিল্পজাত ক্রিকেট উপকরণ বিশেষ অবদান রাখছে।