কাপ্তাই-ঘাগড়া সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক

মোড়ে মোড়ে অসংখ্য বাঁকের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই-ঘাগড়া ৩০ কিলোমিটার সড়ক। সরু এ সড়কের অনেক স্থানে গভীর খাদ ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে নতুন চালকদের জন্য সড়কটি যেন মৃত্যুফাঁদ।

এ অবস্থার মধ্যদিয়েই কাপ্তাই-ঘাগড়া সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শ শ যানবাহন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সড়কটির বাঁক কমিয়ে সোজা করা এবং সড়কটিকে আরো প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছেন সড়কে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা।

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী সরোয়ার হোসেন বলেন, কাপ্তাই-ঘাগড়া সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কের ওপর দিয়ে প্রতিদিন বাস, ট্রাক, মাইক্রো, জিপ, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ শ শ যানবাহন চলাচল করে। এ সড়ক দিয়ে রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই যাতায়াত ছাড়াও বান্দরবান, রাজস্হলী, খাগড়াছড়ি, এমনকি কক্সবাজার-টেকনাফেও যাতায়াত করা হয়। সাধারণ যানবাহন ছাড়া কাপ্তাই-ঘাগড়া সড়ক দিয়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ এবং প্রশাসনের যাবতীয় যানবাহনও নিয়মিত চলাচল করে। তিনি এই সড়কটি বাঁক কমিয়ে এনে ঝুঁকিমুক্ত করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস দাইয়ান পরিবহনের চালক আলী হোসেন জানান, গুরুত্বপূর্ণ কাপ্তাই-ঘাগড়া সড়কের মোড়ে মোড়ে বিপুল সংখ্যক বাঁক ছাড়াও অনেক স্থানেই সড়কটি একবারেই সরু। একদিকে সরু আবার সড়কে হঠাত্ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। এই অবস্থায় গাড়ি চালানো প্রায় সময় বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। তিনি সড়কটি প্রশস্ত করার দাবি জানান। 

এ ব্যাপারে ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিরনজিত তনচংগ্যা বলেন, সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শ শ যান বাহন চলাচল করে। মোড়ে মোড়ে বাঁক এবং বিভিন্ন স্থানে গভীর খাদ থাকায় সড়কে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। 

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের স্থানীয় প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন বলেন, সড়কটি উন্নয়নে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সড়ক সংস্কারে কাজ শুরু হয়েছে। সংস্কারের অংশ হিসেবে বিপজ্জনক বাঁক সোজা করাসহ যেস্হানে সড়কটি বেশি সরু সেখানে প্রশস্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি সড়কের যেসব স্থানের পাশে গভীর খাদ বা গর্ত রয়েছে সেখানেও ঝুঁকি কমানোর কাজ চলছে। আগামী বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই কাপ্তাই-ঘাগড়া সড়ক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।