দক্ষিণ চীন সাগরে ডুবে যাওয়া মার্কিন একটি যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বের করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নৌবাহিনী। ১০ কোটি মার্কিন ডলারের এফ৩৫-সি বিমানটি মার্কিন রণতরী ইউএসএস কার্ল ভিনসন থেকে উড্ডয়নের সময় ভূপাতিত হয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে ডুবে যায়। মার্কিন নেভির ভাষ্যমতে এটি একটি ‘দুর্ঘটনা’।
তাদের একেবারে আধুনিক প্রযুক্তির একটি নতুন বিমান ছিল এটি। বিমানটি বিশেষায়িত এবং গোপন প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতিতে ঠাসা। যেহেতু এখন এটি আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার মধ্যে রয়েছে, আইন অনুযায়ী যেকোনো দেশ এটি উদ্ধারের চেষ্টা করতে পারে। তাই এই বিমানের কাছে আগে যে দেশ পৌঁছাবে, তারাই এর মালিকানা দাবি করতে পারবে। আর এই বিমান উদ্ধারের পুরস্কার হল অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আকাশযানটির সব রহস্য।
বিমানটি এখন সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে, কিন্তু এটি নিয়ে এরপর কী করা হবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিমানটি ঠিক কোন অবস্থানে রয়েছে বা এটি উদ্ধার করতে কত সময় লাগতে পারে, এসব তথ্য প্রকাশ করছে না মার্কিন নেভি। মার্কিন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন এই বিমানের কাছে পৌঁছাতে ‘অত্যন্ত উদগ্রীব’। একটি উদ্ধারকারী মার্কিন জাহাজ বিমান ধ্বংসের জায়গা থেকে দশ দিনের দূরত্বে রয়েছে বলেও বলছেন তারা। তবে বিমানের কাছে যেতে দশ দিন লাগলে অনেক দেরি হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন প্রতিরক্ষা বিষয়ক পরামর্শদাতা আবি অস্টেন। তিনি মনে করেন দশ দিনের মধ্যে বিমানের ব্ল্যাক বক্সের ব্যাটারি ফুরিয়ে যাবে এবং তখন বিমানটির অবস্থান চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ‘এই বিমানটি ফিরে পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এফ-৩৫ আসলে উড়ন্ত একটি কম্পিউটারের মত। অন্যান্য যুদ্ধ উপকরণের সাথে সংযোগ করার জন্য প্রস্তুত করে এটি তৈরি করা হয়েছে। এটি সেন্সরের সাথে শুটারের সংযোগ’ তৈরি করে। চীনের কাছে এই প্রযুক্তি নেই, তাই তারা যদি এই বিমানের দখল নিতে পারে তাহলে সেটা হবে তাদের জন্য একটা বড় ধরণের অগ্রগতি।’
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রুম্যান প্রজেক্টের নিরাপত্তা বিষয়ক ফেলো এবং চীন বিষয়ক বিশ্লেষক ব্রাইস বব্যারস বলেছেন, ‘আমার মনে হয় তারা (চীনারা) বিস্তারিত বোঝার সুবিধার্থে বিমানটির অংশবিশেষ দেখতে চাইবে যাতে এটি কীভাবে তৈরি করা হয়েছে তা বুঝতে পারে এবং এর দুর্বলতা সম্পর্কে জানতে পারে।’