‘জহির রায়হানের কাজগুলোকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি’

সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হানকে যেভাবে ভাবা উচিত ছিল সেভাবে ভাবা হয়নি। তার সাহিত্য কর্মগুলোকে শুধু পুস্তক আকারে প্রকাশ করা হয়েছিল, কিন্তু চলচ্চিত্র নিয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি। তিনি যা রেখে গেছে, তা যথাযথ মূল্যায়ন পায়নি।

জহির রায়হানের কর্মজীবন নিয়ে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ।

শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় লালমাটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে আলোচনা সভার পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদ।

আলোচনা ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, জহির রায়হান বেঁচে থাকলে আমাদের দেশে পঁচাত্তরের ঘটনাটি ঘটতো না। কারণ তিনি তার নির্মাণশৈলী দিয়ে মানুষকে যেভাবে সচেতন করে তুলতেন তার কোন তুলনা ছিল না। জহির রায়হান যে মাপের ছবি বানাতেন আমরা আজকের সময় সেই মাপের ছবি দেখি না। স্বাধীনতার পর পর সুভাষ দত্তের অরুণোদয়ের তরুণদল সিনেমাটি ছাড়া আমরা সেই মাপের কোন সিনেমা দেখতে পাইনি। 

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে নাট্যজন শংকর সাঁওজাল বলেন, একটা চলচ্চিত্র বানিয়ে পুরষ্কার পাব বলে সিনেমা বানাতেন না জহির রায়হান। তিনি মানুষের দুঃখ কষ্টকে তুলে ধরেছেন, তাদের প্রতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। সেই প্রতিক্রিয়াগুলো ক্যামেরা বন্দী হয়ে যেই সিনেমাগুলো নির্মিত হয়েছিল তা আজ বিশ্বে পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সংযোজিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান নির্মাতারা বাইরের দেশে পুরষ্কার জেতার জন্য সিনেমা বানান। এই ধারণাটা যতদিন না মাথা থেকে সরানো যাবে ভাল সিনেমা আসবে না। জহির রায়হানকে সত্যিকারের সম্মান জানাতে গেলেও এই ধারনাটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।  

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রদীপ ঘোষ ও লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আকমল হোসেন।