ছেলে হত্যার রায় শুনতে কক্সবাজারে সিনহার মা 

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার রায় আজ সোমবার (৩১ জানুয়ারি)। ছেলের হত্যার রায় শুনতে সিনহার মা নাসিমা আক্তারর কক্সবাজার গেছেন । মামলার বাদী ও সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইলের এই রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে। 

শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘আমার ভাই সিনহা হত্যা মামলায় রায় শুনতে মাকে নিয়ে এখন আমরা কক্সবাজারে।’

কক্সবাজার মেরিনড্রাইভ সড়কের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার আলোচিত মামলার রায় পড়া চলছে। সোমবার (৩১ জানুয়ারি)বিকেলে পৌনে ৩ টায় ৩০০ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পড়া শুরু করেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল।

সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ছবি: সংগৃহীত

দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে এজলাসে এসে আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর মামলা সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক আলোচনা করেন বিচারক। এরপর শুরু করেন অপরাধের পর্যবেক্ষণ বয়ান। সাক্ষ্য প্রমাণে কার কী অপরাধ দাঁড়িয়েছে সেসব তুলে ধরার পর হত্যায় সংশ্লিষ্টতার অপরাধ অনুসারে সাজা ঘোষণা চলছে। এমনটি জানিয়েছে বিচার সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এর আগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত বিতর্কিত বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমারসহ ১৫ আসামিদের আদালতে আনা হয়। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় প্রিজনভ্যান থেকে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে তাদের নামানো হয়।

রায় কেন্দ্র করে আদালতের চারপাশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত সৃষ্টির ৩৮ বছরের ইতিহাসে এ প্রথম এত দ্রুত কোনো হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হচ্ছে। এর আগে হত্যা কিংবা ফৌজদারি কোনো মামলায় এত বিপুল সংখ্যক সাক্ষী নেওয়ার নজির নেই। নজির নেই এত স্বল্প সময়ে চার্জ গঠন, শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনেরও। সবকিছু যেন অবিশ্বাস্য গতিতেই এগিয়েছে। তাই সবার দৃষ্টি এখন এ রায়ের দিকেই।

মা নাসিমা আক্তারের সঙ্গে সিনহা। ছবি: সংগৃহীত

সেই মতেই সবকিছুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল হতেই পুরো আদালত পাড়ায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সবখানেই পিনপতন নীরবতা। আদালত পাড়ার চারপাশে, পয়েন্টে পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে নিরাপত্তাকর্মী। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানা বিভাগের লোকজন কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সিনহা হত্যা মামলার রায় ঘিরে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে পুলিশের সর্বোচ্চ নজর রয়েছে। আদালতে নিরাপত্তার স্বার্থে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও বিপুল সংখ্যক শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য রয়েছে।

আসামি ওসি প্রদীপকে আদালতে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত সৃষ্টির ৩৮ বছরের ইতিহাসে এ প্রথম এত দ্রুত কোনো হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হচ্ছে। এ মামলায় ৮৩ সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর আগে হত্যা কিংবা ফৌজদারি কোনো মামলায় এত বিপুল সংখ্যক সাক্ষী নেওয়ার নজির নেই। মাত্র ৩৩ কার্য দিবসে আমরা এ মামলার সকল বিচারিক কার্যক্রম শেষ করতে সক্ষম হয়েছি। তেমনি সক্ষম হয়েছি সিনহা হত্যার বিষয়টি প্রমাণে। আমাদের আশা সর্বোচ্চ শাস্তি পাবেন প্রদীপ ও অভিযুক্তরা।

স্বল্প সময়ে সিনহা হত্যার রায় দেশে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।