২০২০ সালে লকডাউনের মধ্যে মদের পার্টি করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এই পার্টি নিয়ে শীর্ষ আমলা সুয়ে গ্রের তদন্ত রিপোর্ট আংশিক প্রকাশ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বরিস ক্ষমা চাইলেও স্বস্তি পাচ্ছেন না। তার নিজ টোরি দলের সিনিয়র এমপিরাই তদন্ত রিপোর্ট পুরোপুরি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে পারেননি উপ-প্রধানমন্ত্রী ডমিনিক রাব। খবর প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।
টোরি দলের সাবেক চিফ হুইপ মার্ক হার্পার বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তিনি সুয়ে গ্রের তদন্ত রিপোর্টের পুরোটা জনসম্মুখে প্রকাশ করার আহ্বান জানান। যদিও প্রধানমন্ত্রী বরিস পার্লামেন্টে তার এই আহ্বানে সাড়া দেননি।
মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাব বলেন, মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্ত রিপোর্টে নতুন কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ আসবে কি না এবং সেটি প্রকাশ করা হবে কি না তা নিশ্চিত করতে পারছেন না। পুলিশ ১২টি পার্টিসহ আরও কয়েকটি পার্টির বিষয়ে তদন্ত করছে।
রিপোর্ট প্রকাশের পর সুয়ে গ্রে সোমবার জানান, তার কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল। অন্তত ৭০ জনের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। কিন্তু পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই তথ্যগুলো প্রকাশ করা হবে না। তিনি আরও জানান, তিনি আরও কয়েকটি অনুষ্ঠানের তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। কারণ, সেগুলো তদন্তের আওতায় ছিল না।
সোমবার পার্লামেন্টের অধিবেশন চলার সময় স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা আয়ান ব্যাকফোর্ড বলেন, জনসন মিথ্যা কথা বলছেন। তখন তাকে অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু প্রশাসনিক রিপোর্টের পর আরও চাপে পড়েছেন বরিস। এখন তার দলের সদস্যরা জনসনকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি আরও জোরালোভাবে তুলতে পারেন। এ নিয়ে ভোটাভুটি করার দাবি তুলতে পারেন।
এটা ঠিক যে, রিপোর্টে এটা বলা হয়নি, জনসন ফৌজদারি অপরাধ করছেন। এটাই তার একমাত্র রক্ষাকবচ। সেজন্য তিনি হাঁফ ছাড়ার কিছুটা সময় পেতে পারেন। বিরোধী লেবার পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই রিপোর্ট প্রকাশের আগেই মানুষ জেনে গিয়েছিল যে, জনসন করোনার বিধি ভেঙে পার্টি করেছেন। তিনিই নিয়ম তৈরি করেছেন। তিনিই ভেঙেছেন। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার উপযুক্ত নন।