সিরিয়া এবং ইরাকে তথাকথিত জিহাদে অংশ নেয়া ব্রিটিশ নাগরিকদের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। আমেরিকান সাংবাদিক জেমস ফলিকে শিরচ্ছেদকারী ব্যক্তি একজন ব্রিটিশ নাগরিক- এমনটি নিশ্চিত হওয়ার পর ক্যামেরন এ ঘোষণা দিলেন।
ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভাষা বিশেষজ্ঞরা ভিড়িও চিত্রে শিরচ্ছেদকারীর ইংরেজী বলার ধরন থেকে নিশ্চিত হয়েছেন যে, শিরচ্ছেদকারী ব্রিটেনে বসবাস করতেন।
'এ ম্যাসেজ টু আমেরিকা' শিরোনামে- গত মঙ্গলবার আইএস (আগে আইসিস নামে পরিচিত ছিল) এর প্রকাশিত ভিড়িওটির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া মাত্র ডেভিড ক্যামেরন তার অবকাশ যাপন বাতিল করে কর্নওয়াল থেকে লন্ডনে ফিরে আসেন। ব্রিটিশ জিহাদীদের সম্পর্কে করণীয় ঠিক করতে বুধবার তিনি হোম অফিস এবং পররাষ্ট্র দফতরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে জরুরী বৈঠক করেন।
ইসলামিক উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে ক্যামেরন বলেন, যারা সন্ত্রাস, মানুষ হত্যা এবং সংঘর্ষে জড়াচ্ছে তাদের ব্রিটিশ পাসপোর্ট কেড়ে নেয়া হবে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্রিটেনে কঠোর আইন বিদ্যমান রয়েছে, তা সত্ত্বেও আমরা এ বিষয়ে যে কোনো নতুন পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত।
এদিকে শিরচ্ছেদকারী ব্রিটিশ জিহাদীর পরিচয় নিশ্চিত করতে জোর তত্পরতা শুরু করেছে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা। ব্রিটেনের মুসলিম কমিউনিটির নেতারাও উগ্রপন্থীদের খুঁজে বের করতে পুলিশের সাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
রামাদ্বান ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ শফিকের বরাদ দিয়ে ইংরেজী দৈনিক মেট্রোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটেনে বসবাসরত উগ্রপন্থী এবং যারা সিরিয়া কিংবা ইরাক থেকে ফিরে আসবে তাদের ধরিয়ে দিতে রামাদ্বান ফাউন্ডেশন কাজ করবে। শফিক বলেন, মুসলিম হিসেবে আমরা যে কোনো সন্ত্রাসী কর্মের বিরুদ্ধে। আইএস এর কর্মকা্ল ইসলাম বিরোধী দাবি করে তিনি বলেন, যারা আইএস কে সমর্থন করে আমরা তাদেরও তীব্র নিন্দা জানাই।
রোকেয়া খান নামে এক নারী যার ২০ বছর বয়সী ছেলে 'আইএস' এর হয়ে যুদ্ধ করছে বলে ধারনা, তিনি বলেন, 'আইএস' যা করছে তা ইসলামের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। নিজের ছেলে ফিলে এলে তিনি তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেবেন বলে জানান।
ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ৫ থেকে ৭শ ব্রিটিশ নাগরিক সিরিয়া এবং ইরাকে সরকারবিরোধীদের পক্ষে লড়াই করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুণও রয়েছে। ইতোমধ্যে ইফতেখার জামান, রুহুল আমিন এবং হামিদুর নামে তিন বাঙালি তরুণ সিরিয়ায় নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মাসুদ চৌধুরী নামে আরেকজন সিরিয়া থেকে ফিরার পথে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে ব্রিটেনের কারাগারে আটক রয়েছে।