দ্বৈত ভোটার হলে শাস্তি: শাহ নেওয়াজ

দ্বৈত ভোটার না হওয়ার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেছেন, ‘দ্বৈত ভোটার হওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দুই স্থানে ভোটার হবেন না। কেউ দ্বৈত ভোটার হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বুধবার শেরেবাংলা নগরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
শাহ নেওয়াজ বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশনে ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য ‘তথ্য সংগ্রহকারীরা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। পরবর্তীতে তাদের ছবি তোলা এবং রেজিস্ট্রেশনের জন্য সময় ও স্থান জানিয়ে দিবেন। সেখানে গিয়ে তারা ছবি তুলবেন এবং রেজিস্ট্রেশন করবেন। ভোটারযোগ্য একজন ব্যক্তিও যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন সেই নির্দেশনা তথ্য সংগ্রহকারীদের দেয়া আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হালনাগাদ কার্যক্রমে নারী ভোটার কম হওয়া প্রসঙ্গে শাহনেওয়াজ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তিত। আমরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের যে ভোগান্তি তা দূর করতে নির্বাচন কমিশন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে যেন ভোটাররা আইডি কার্ড সংগ্রহ করতে পারেন সে বিষয়ে চেষ্টা করছি। দ্রুত সার্ভার স্ট্রেশনগুলোর কার্যক্রম চালু করা হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে উপজেলা পর্যায় থেকে ভোটাররা ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা করেন তিনি।
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) কিছু ত্রুটি আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত আমরা এখনো নেইনি। আমরা ছোটখাটো বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শতভাগ ত্রুটি মুক্ত করার পর আমরা জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চেষ্টা করবো।
নারায়নগঞ্জ-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের আচরণবিধি লংঘন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কোনো নির্দেশনা দেইনি। কারণ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে টেলিভিশনে যে পুলিশের বক্তব্য আমরা দেখিছে বা শুনেছি তিনি নির্বাচন কমিশনে অথবা নির্বাচনী তদন্ত কমিটির কাছে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। আমরা টেলিভিশনে দেখে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি না।’
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ না দিলেও মতামত জানিয়ে গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন থেকে গত ২৬ জুন অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা মিহির সারোয়ার মোর্শেদকে একটি চিঠি দেয়া হয়। সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর ৮১-এফ ও সিআরপিসি (ফৌজদারি কার্যবিধি) ৩৫৩ ধারা মোতাবেক শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে রিটার্নিং অফিসার চাইলে মামলা করা যেতে পারে বলে মত দেন।