প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন ঢাকায় সমাবেশে যাওয়ার জন্য টিকিট না পেয়ে বুধবার সন্ধ্যার পর বন্দর নগরীর বটতলী স্টেশনে বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্রলীগকর্মীরা। এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে রেলকর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। খবর পেয়ে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা গিয়ে বিক্ষোভরত ছাত্রলীগকর্মীদের দাবির মুখে রেলের পাঁচ কর্মীকে সাময়িক বরখাস্তের কথা জানালে প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পূর্ব রেলের উপ আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক এস এম মুরাদ হোসেন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, দুই রেলকর্মী ও তিন নিরাপত্তা রক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই রেল কর্মচারী হলেন স্টেশন মাস্টার আবু জাফর ও স্টেশনের দুই নম্বর কাউন্টারে কর্মরত বুকিং সহকারী মহসিন। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য হলেন- মনির হোসেন, সাব্বির, হাফিজ। পাশাপাশি রেলওয়ে জিআরপি থানার ওসি ইয়াছিন ফারুককে সাময়িক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান মুরাদ হোসেন।
ছাত্রলীগ নেতাদের দাবি, তাদের ওপর রেল পুলিশ ও রেলকর্মীরা হামলা চালায়।
নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজম রনি সাংবাদিকদের বলেন, “আগামী ৩১ অগাস্ট ঢাকায় সমাবেশে যোগ দিতে চট্টগ্রাম ছাত্রলীগ কর্মীদের জন্য টিকিট চেয়ে গত ২০ অগাস্ট আবেদন করা হয়। পূর্ব রেলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বুধবার সন্ধ্যায় আমাদের আসতে বলেছিলেন। স্টেশনে আধ ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর স্টেশন মাস্টার আবু জাফর আমাদের বাইরে থেকে টিকিটের ব্যবস্থা করে নিতে বলেন। এসময় আমি জানতে চাই, আমরা কেন কালোবাজারে টিকিট কিনব? এ নিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এরপরই স্টেশন চত্বরে থাকা ছাত্রলীগকর্মীদের ওপর স্টেশন মাস্টার আবু জাফর ও জিআরপি থানার ওসি ইয়াছিন ফারুকের নির্দেশে হামলা চালানো হয়।“ রনি বলেন, হামলায় তাদের পাঁচজন আহত হন। দুই কর্মীকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়। কোতোয়ালি থানার ওসিকে ফোনে ঘটনা জানানোর পর ওই দুজনকে বের করে আনা হয়।