আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ইতো

জাতীয় দলের অধিনায়কের পদ হারানোর একদিন পরেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ক্যামেরুনের চারবারের আফ্রিকান বর্ষসেরা খেলোয়াড় স্যামুয়েল ইতো। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা স্ট্রাইকার লিখেছেন, ‘আমি সবাইকে জানাতে চাই যে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থেকে বিদায় নিচ্ছি। আফ্রিকার সবাইকে ধন্যবাদ, একইসাথে আমাকে শর্তহীন ভাবে সমর্থন করার জন্য আমার সব সমর্থককেও ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
আগামী মাস থেকে শুরু হওয়া ২০১৫ আফ্রিকান নেশন্স কাপের বাছাইপর্বের জন্য ক্যামেরুনের ২৫ জনের প্রাথমিক স্কোয়াডে জায়গা হয়নি ইতোর।
ব্রাজিল বিশ্বকাপেই আফ্রিকান অদম্য সিংহদের জার্সি গায়ে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যদিও গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। মেক্সিকোর বিপক্ষে ১-০ গোলের পরাজিত ম্যাচটিতে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। ১৯৯৮, ২০০২, ২০১০ সালের পরে এটি ছিল ইতোর চতুর্থ বিশ্বকাপ। ক্যামেরুনের হয়ে ১১৬টি ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করা ইতো ২০০০ ও ২০০৮ সালে দুইবার আফ্রিকান নেশন্স কাপ জিতেছেন। এই প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত ১৮ গোল করে তিনি সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এছাড়া ক্যামেরুনের হয়ে রেকর্ড ৫৬টি গোলও করেছেন। ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিকে স্বর্ণ জয় এখন পর্যন্ত তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অর্জন।
বিশ্বকাপে নিজ দেশকে ভাল কিছু উপহার দিতে ব্যর্থ হলেও ক্লাব ফুটবলে তার সফলতা দারুণ আকর্ষণীয়। যেকোন ক্লাবের হয়েই তার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে। এর মধ্যে দুইবার বার্সেলোনা ও একবার ইন্টার মিলানের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লীগের শিরোপা জিতেছেন। চারবার আফ্রিকার বর্ষসেরা খেলেয়াড় হবার পাশাপাশি ২০০৬ সালে লা লিগায় সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছিলেন। যদিও ব্রাজিল বিশ্বকাপে হাঁটুর ইনজুরি তাকে বেশ খানিকটা পিছিয়ে দিয়েছে। মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই ইনজুরিতে আক্রান্ত হন ইতো। প্রথম ম্যাচেই অধিনায়কের এই ইনজুরি পুরো দলের ওপর প্রভাব ফেলে, ফলস্বরূপ প্রথম রাউন্ড থেকে হতাশাজনক বিদায় নিয়ে দেশে ফিরতে হয় ক্যামেরুনকে। একইসাথে জার্মান কোচ ভলকার ফিনকের বিবেচনায় আফ্রিকান নেশন্স কাপের বাছাইপর্বের দল থেকে বাদ পড়ায় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারকা এই ফরোয়ার্ড। যদিও ভলকার মনে করেন এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশকে কিছু দেবার ক্ষমতা ইতোর রয়েছে।